ঢাকা, বাংলাদেশ | মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

শিরোনামঃ

   খাগড়াছড়ি সদর দীঘিনালা ওপানছড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে    আজ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং ঢাকায় আসেন    রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হাত নেই: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী    নরসিংদীতে যাত্রীর ছুরিকাঘাতে ইজিবাইক চালক খুন, যাত্রী আটক    ‘৪৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা, রেড অ্যালার্ট’ জারি ভারতের দিল্লিতে    রাইসির হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েও পায়নি ইরান    পুত্র সন্তানের মা হয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম    এভারেস্টের পর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে লোৎসে জয় করলেন বাবর    আন্তর্জাতিক চা দিবস আজ    কাকে বিয়ে করছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী আনুশকা?    চুয়াডাঙ্গা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল উ‌দ্বোধন হ‌লেও মে‌লে‌নি অনুম‌তি    নাগরিকত্ব ফিরে পেয়ে প্রথমবার ভোট দিলেন অক্ষয়    দুই বোনকে হাতুড়িপেটা করা সেই ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার    ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক    মুগদায় গলায় ফাঁসি দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

ঘোড়া, আমাদের প্রাণিজগতের অতিপরিচিত একটি চতুষ্পদ প্রাণী। নানা কারণে ঘোড়া মানুষের খুবই প্রিয়। বিশেষ করে পিঠে চড়া যায়। প্রাচীনকাল থেকেই সওয়ারি হিসেবে ব্যবহার হয়ে এসেছে এই প্রাণী। দ্রুতগামী বলে একে তুরগ বা তুরঙ্গমও বলা হয়।

অতিপরিচিত এই প্রাণীটি বেশিরভাগ সময়ই ঘোড়া দাঁড়িয়ে থাকে। এমনকি ঘুমায়ও দাঁড়িয়ে। ব্যাপারটা নিয়ে প্রায় সবার মনেই কৌতূহল আছে। তাই বলে কি ঘোড়া কখনোই শুয়ে ঘুমায় না? হ্যাঁ, ঘোড়াও শুয়ে ঘুমায়, দিনের কিছুটা সময় ঘোড়াকে শুয়ে থেকেই ঘুমাতে হয়।

তবে বেশির ভাগ সময়ই এরা দাঁড়িয়েই ঘুমায়। শিকারি দেখলেই যেন চট করে দৌড় দিতে পারে তাই দিনের বেশির ভাগ সময়ই ঘোড়া দাঁড়িয়ে ঘুমায়। আর শুয়ে ঘুমালে সেটা সম্ভব নয়। কেননা ঘোড়া বেশ বড়সড় একটা প্রাণী। এত বড় শরীর নিয়ে উঠে দাঁড়াতে অনেক শক্তি আর সময় লাগে। কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকলে সেটার দরকার পড়ে না। বলা যায় শিকারির কবল থেকে দ্রুত রক্ষা পেতেই ঘোড়া এইভাবে অভিযোজিত হয়েছে।

কিন্তু কথা হল, আমাদের কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেই পা অবশ হয়ে আসে। মনে হয় যেন কোথাও বসতে পারলে বাঁচি। কিন্তু ঘোড়া কি করে এত সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে?

এর পেছনে আছে এদের শরীরের এক বিশেষ সিস্টেম এর ভূমিকা। এর নাম স্টে অ্যাপারেটাস। টেন্ডন আর লিগামেন্ট নামে কিছু নরম টিস্যু নিয়ে এই সিস্টেম গঠিত। দেয়ালে পোস্টার লাগাতে যেমন আঠা লাগে, তেমনি হাড়ের সাথে মাংস জোড়া লাগে টেন্ডন দিয়ে।

আর লিগামেন্ট দরজার কব্জার মতন দুইটা হাড়কে একসাথে জোড়া লাগায়। ঘোড়ার সামনের পা আর পেছনের পা, উভয় পায়েই এই স্টে অ্যাপারেটাস কাজ করে। ঘোড়া যখন পায়ের পেশী প্রসারিত করে তখন এই স্টে অ্যাপারেটাস- হাঁটু, গোড়ালিতে থাকা হাড়ের জয়েন্ট আর কাধকে স্থির রাখতে টেনশন ব্যান্ড হিসেবে কাজ করে। ফলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও ঘোড়ার ক্লান্তি লাগে না। বরং দাঁড়িয়ে থাকলে এদের শরীরের পেশীগুলো রিল্যাক্স (শান্ত) হয়।

তবে এভাবে কিন্তু ঘোড়ার ঘুম চক্র সম্পন্ন হয় না। কেননা দাঁড়িয়ে থেকে রেম ঘুম ((রেম-র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট)) সম্ভব না। ঘুমের গভীর স্তরের নাম রেম ঘুম। এসময় চোখ নড়তে থাকে, মানুষ স্বপ্নও দেখে এই স্তরেই। তখন শরীরের সমস্ত পেশী অসাড় হয়ে পড়ে। এই স্তরে মস্তিস্ক স্মৃতি তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকে। তাই ঘোড়াকে রেম ঘুমের জন্যে হলেও দিনের কিছু সময় শুয়ে ঘুমাতে হয়।

অন্তত দিনে পঁচিশ মিনিট হলেও ঘোড়ার রেম ঘুম দরকার হয়। তা না হলে ঘোড়ার ঘুম চক্র ঠিকঠাক মতন সম্পন্ন হয় না। ব্যাপারটা ঘোড়ার স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভাল না। কিন্তু আশপাশে বিপদের আশঙ্কা টের পেলে ঘোড়া কখনওই শুয়ে ঘুমাবে না। পরিবেশ নিরাপদ আর নিশ্চিন্ত মনে করলেই কেবল ঘোড়া শুয়ে ঘুমায়। তবে সেটা বেশিক্ষণ না। কেননা দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকলে ঘোড়ার শরীরে রক্ত চলাচলে সমস্যা হয়। তাই রেম ঘুম সম্পন্ন হলেই ঘোড়া উঠে দাঁড়ায়।

এনএএন টিভি


প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও
কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।