ঢাকা, বাংলাদেশ | মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

শিরোনামঃ

   ঢাকাসহ রাতে ১০ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস    নরসিংদীতে ৩ বছরের শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারসহ ৩ জন আটক    হজ ক্যাম্পে কোনো ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির স্বীকার হননি –ধর্মমন্ত্রী    বেনজীরের ৭ পাসপোর্টের সন্ধান মিলল    আজকে দেশের তাপমাত্রা    ঈদযাত্রায় সড়কে নিহত হয়েছেন ২৩০ জন: বিআরটিএ    আগামী ১০ জুলাই গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি    পটুয়াখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু    এ সফর ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ –প্রধানমন্ত্রী    ফেনীতে খুন হওয়া সুমন ছিলেন মা-বাবার শেষ অবলম্বন    পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে বাড়ল লেনদেনও    ঈদের মাসে ২৩ দিনে প্রবাসী আয় এল ২০৫ কোটি ডলার    বিয়ের জন্য সাঁজতে পার্লারে গিয়ে তরুণী নিহত সাবেক প্রেমিকের গুলিতে    অভিন্ন নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী    রাসেলস ভাইপার সাপ সরকারের সব লুটেপুটে খাচ্ছে –ব্যারিস্টার সুমন

চুয়াডাঙ্গা ৫০ শয্যার সদর হাসপাতালকে ২০০৩ সালে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। আর ২০১৮ সা‌লে ২৫০ শয্যা হাসপাতা‌লের অবকাঠা‌মো নির্মাণ শেষ ওই বছর ২৮ অ‌ক্টোবর তৎকা‌লিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ না‌সিম ১০০ শয্যার হাসপাতাল‌টি‌কে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হি‌সে‌বে উ‌দ্বোধন ক‌রেন। উ‌দ্বোধ‌নের পর পে‌রি‌য়ে গে‌ছে ৫ টি বছর। তবুও আজ পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগ থে‌কে ১০০ শয্যার হাসপাতাল‌টি‌কে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হি‌সে‌বে স্বীকৃ‌তি দেয়‌নি। ফ‌লে এখা‌নে নেই ২৫০ শয্যা হাসপাতা‌লের ওষুধ, খাদ্য ও জনব‌ল।

অপর‌দি‌কে, ১০০ শয্যা হাসপাতালের অনুম‌তি থাক‌লে জনবল নেই। ১৯৭০  সা‌লে নি‌র্মিত ৫০ শয্যা হাসপাতালে ২২ ডাক্তার বরাদ্দ থাক‌লেও রয়েছে অনেক কম। এখা‌নে চি‌কিৎসক র‌য়ে‌ছে মাত্র ১৫ জন। আর এই ১৫ চি‌কিৎস‌কের অ‌ধিকাংশ রয়ে‌ছেন অস্থায়ী ভি‌ত্তি‌ত্বে। মাত্র ১৫ চি‌কিৎসক দি‌য়ে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল‌টি চল‌ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রথম শ্রেণীর চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২২টি। এর অ‌ধিকাংশ পদে স্থায়ী জনবল নেই। স্থায়ী ও অস্থায়ী মি‌লে মাত্র ১৫ জন ডাক্তার র‌য়েছে। ৭ টি পদ শূণ্য।
তবে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক ও সার্জারি), মেডিকেল অফিসারের তিনটি পদ, ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল অফিসার হোমিও এবং আয়ুর্বেদিক পদে অন্য হাসপাতালের চিকিৎসক সংযুক্ত করা হয়েছে।
পদ শূন্য রয়েছে সি‌নিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট চক্ষু, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যানেস্থেসিয়া, সিনিয়র কনসালট্যান্ট শিশু, মেডিসিন ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট ইএনটি, রেডিওলজি এবং মেডিকেল অফিসারের পদ।
২০১৪ সাল থেকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আবুল হোসেন ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ডা. হোসনে জারি তহমিনা। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সংযুক্ত রয়েছেন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. মো. মাহবুবুর রহমান মিলন ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) নুরে আলম আশরাফী। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কপপ্লেক্স থেকে সংযুক্ত রয়েছেন ডা. মো. আসাদুর রহমান মালিক। এছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলা ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২০১৯ সাল থেকে তিনজন মেডিকেল অফিসার সদর হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছেন।
এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণীর ৬৭টি পদের মধ্যে নার্সিং সুপারভাইজারের দুটি পদই শূন্য। সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদ রয়েছে ৫৪টি। এর মধ্যে ৫১ পদেই স্থানীয় জনবল নেই। অন্য হাসপাতালের নার্স দিয়ে পদগুলো পূরণ করা হয়েছে। দুটি পদে স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া নার্স রয়েছেন। শূন্য রয়েছে একটি পদ। তৃতীয় শ্রেণীর জনবলের পদ রয়েছে ৩৫টি। এর মধ্যে অফিস সহকারী, হেলথ এডুকেটর ও মেডিসিন টেকনিশিয়ান (ইকো) পদে স্থায়ী জনবল রয়েছে। বাকি পদগুলো পূরণ করা হয়েছে অন্য হাসপাতালের জনবল দিয়ে।
চতুর্থ শ্রেণীর ১৪৮টি পদের মধ্যে স্থায়ী জনবল রয়েছে চারটিতে। এছাড়া শূন্য রয়েছে ১১টি পদ। বাকি পদ পূরণ করা হয়েছে অন্য হাসপাতালের জনবল দিয়ে। এ কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ রোগীদের।
হাসপাতা‌লের নতুন ভব‌নের ৬ষ্ঠ তালায় পুরুষ মে‌ডি‌সিন ওয়া‌র্ডে চি‌কিৎসা নি‌তে আসা রোগীর ছোট ভাই জেলার জীবননগর উপ‌জেলার মোক্তারপুর গ্রা‌মের শুকুর আলী জানান, সকা‌লে কোন রকম ক‌য়েক মি‌নি‌টের জন্য ডাক্তার আ‌সেন। ত‌ড়িঘ‌ড়ি ক‌রে নামকা‌ওয়াস্তে রোগীর বে‌ডের সাম‌নে আ‌সেন দু একটা কথা ব‌লে চ‌লে যান। তার পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে আর‌ কোন ডাক্তার আ‌সেন না। রোগীর কি সমস্য সেটাও আজ (১৪ মে মঙ্গলবার) তিন দিন আমা‌দের‌কে জানান‌নি। চি‌কিৎসার মানও খুব খারাপ। হাসপাতাল থে‌কে তেমন কোন ওষুধও দি‌চ্ছে না। প্রাঢ সব ওষুধই বাই‌রে থে‌কে নি‌কে আন‌তে হ‌চ্ছে। এছাড়া এই তিন দি‌নে রোগী‌কে দেওয়া হয়‌নি এক বেলার খাবার। নার্স‌দের তা‌ছে খাবা‌রের কথা বল‌লে তারা জানায় নতুন ভব‌নে খাবার বরাদ্দ নেই।
একই ওয়া‌র্ডে ভ‌র্তি থাকা দামুড়হুদা উপ‌জেলা সদ‌রের দশমী পাড়ার আসলাম মিয়া জানান, চুয়াডাঙ্গা মা‌র্কে‌টে এ‌সে হটাৎ অসুস্থা হয়ে পড়‌লে হাসপাতা‌লে এ‌সে ভ‌র্তি হয়। হাসপাতা‌লে একটা বেড পে‌লেও তা‌তে নেই কোন প‌রিষ্কার চাদর, নেই কোন বা‌লিশ। নেই কোন সি‌নিয়র বা হাসপাতা‌লের স্টাফনার্স। ক‌য়েকজন স্টু‌ডেন্ট নার্স সেবা দি‌তে গি‌য়ে উল্টাপাল্টা কাজ ক‌রে ফেল‌ছে। ভুল ভাল ওষুধ খাই‌য়ে দি‌চ্ছে।

পাওয়া নার্স রয়েছেন। শূন্য রয়েছে একটি পদ। তৃতীয় শ্রেণীর জনবলের পদ রয়েছে ৩৫টি। এর মধ্যে অফিস সহকারী, হেলথ এডুকেটর ও মেডিসিন টেকনিশিয়ান (ইকো) পদে স্থায়ী জনবল রয়েছে। বাকি পদগুলো পূরণ করা হয়েছে অন্য হাসপাতালের জনবল দিয়ে।

চতুর্থ শ্রেণীর ১৪৮টি পদের মধ্যে স্থায়ী জনবল রয়েছে চারটিতে। এছাড়া শূন্য রয়েছে ১১টি পদ। বাকি পদ পূরণ করা হয়েছে অন্য হাসপাতালের জনবল দিয়ে।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) ডা. উম্মে ফারহানা বলেন, ২০১৮ সা‌থে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের উ‌দ্বোধন হ‌লেও আজ পর্যন্ত তার অনুম‌তি মে‌লে‌নি। ২০১৩ সা‌থে ১০০ শয্যার হাসাপাতাল অনু‌মো‌দিত হলেও আজ পর্যন্তা জনবল বরাদ্দ দেওয়া হয়‌নি। ৫০ শয্যার  জনবলের চাই‌তেও কম জনবল দি‌য়ে হাসপাতাল‌টি চলছে। এখানে শয্যার বিপরীতে তিন-চার গুণ বেশি রোগী সবসময় ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে তাপপ্রবাহে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতাল থেকেই ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ১০০ শয্যার হাসপাতাল হওয়ায় ১০০ অধিক ভর্তি রোগীর খাদ্য চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। ১০০ শয্যার জন্য তৈরি করা খাবার ওয়ার্ডের রোগীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে কয়েক দিনের ব্যবধানে শয্যার দু তিনগুন রোগী বে‌শি ভ‌র্তি হয় । বিশেষ করে ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেড়েছিল। হাসপাতালে যে পরিমাণ জনবল আছে, সেটা দিয়েই বিপুল প‌রিমাণ রোগীদের সেবা দেয়া হয়। জনবল বাড়ানো হলে সেবা দিতে সুবিধা হতো। বিপুল প‌রিমা‌নের এই রোগী‌দের সব সময় হাসপাতাল থে‌কে ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয়না। ত‌বে হাসপাতালে যে ওষুধ থা‌কে আমরা চেষ্টা ক‌রি সেটার স‌ঠিক ব্যবহার করার।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতা‌লের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মো: আতাউর রহমান জানান, আ‌মি যোগদা‌নের পর থে‌কে আপ্রাণ চেষ্টা ক‌রে যা‌চ্ছি জনবল বাড়া‌নোসহ ২৫০ শয্যার অনুম‌তি ওষুধ ও খা‌দ্যের বরাদ্দ পাওয়ার জন্য। এ নি‌য়ে আ‌মি একা‌ধিক পত্র প্রেরণসহ স্বশরী‌রে উর্দ্ধতন বি‌ভিন্ন দপ্ত‌রে হাটাপাড়া কর‌ছি।
এনএএন টিভি / শামসু‌জ্জোহা পলাশ


প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও
কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।