ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) চলতি বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর জলাবদ্ধতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। আমরা ২৯টি খালের সীমানা নির্ধারণ করে পিলার স্থাপন করে ফেলেছি। এখন উদ্ধার করা হচ্ছে।
আমরা দেখেছি মানুষের বাড়ির ভিতরে খালের জায়গা। অর্থাৎ খালের ওপর মানুষ বাড়ি করে বসবাস করছে। এরাই আবার পানি জমলে কর্তৃপক্ষের দোষ দিচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) নগরভবন মিলনায়তনে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএনসিসির উদ্যোগ ও ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আগে যারা দায়িত্বশীল ছিলেন তাদের সঙ্গে যে জনবল কাজ করেছে, বর্তমানে আমার সঙ্গেও সেই জনবল কাজ করছে। আমরা মাত্র ছয় মাসে যে অগ্রগতি করতে পেরেছি, এমনটা আগে হয়নি। এর কারণ সদিচ্ছা। যেটির অভাব ছিল। ভবিষ্যতে নতুন মেয়র বা অন্য কেউ দায়িত্ব নেওয়ার পর চলমান কার্যক্রম অব্যাহত না থাকলে জলাবদ্ধতা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি বিষয় অপরিহার্য—একটি হচ্ছে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, আরেকটি হচ্ছে মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ছাড়।’ ঢাকা ওয়াসা খাল হস্তান্তর করলেও তার রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা সংশ্লিষ্ট কাজে কোনো জনবল দেয়নি। ফলে বিদ্যমান জনবল দিয়েই খালের কাজ চালাচ্ছে উত্তর সিটি করপোরেশন। কিন্তু জনবল স্বল্পতার কারণে তা পর্যাপ্ত নয়।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারি বর্ষণের সময় মাঠ পর্যবেক্ষণ ও জিআইএস ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ধানমণ্ডি ২৭, কালশী, নাখালপাড়া, মিরপুর, উত্তরা সেক্টর-৪, আশকোনা, এয়ারপোর্ট রোডসহ ১৫টি জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় ড্রেনেজ উন্নয়ন ও রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। চলতি অর্থবছরে প্রায় ২২১.৮৫ কিলোমিটার স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন এবং ১.৫৪৭ কিলোমিটার বক্স কালভার্ট পরিষ্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১১০.৯৩ কিলোমিটার রাস্তা ও ১০৫.৮৯ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ/উন্নয়ন হচ্ছে। এসব কাজে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তাদের আওতায় থাকা ২৯টি খালের মধ্যে ২৪ কিলোমিটার খাল খনন/পরিষ্কার করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খালের সীমানা নির্ধারণ করে ১৩০০টি স্থানে পিলার বসানো হয়েছে। পাশাপাশি খালভিত্তিক জিআইএস ডাটাবেইস ও হটস্পট ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। নিয়মিত খাল পরিষ্কার রাখতে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সমস্যা রয়ে গেছে।
প্রশাসক এজাজ বলেন, ‘মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেলছে। খাল পরিষ্কার করার এক সপ্তাহের মধ্যে আবার আগের মতো হয়ে যাচ্ছে। ড্রেন পরিষ্কার করলেও তা দ্রুত ময়লায় ভরে যায়। ফলে বৃষ্টির পানি নামতে পারে না। আমরা যদি কিছু কাজ না করতাম, তবে বিমানবন্দর সড়কসহ আশপাশের এলাকাগুলো এ বছর সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতায় ভুগত।’
তিনি জানান, বর্তমানে নগরে প্রায় ৪৫টি স্পটে পানি জমে থাকে, যেগুলোর বেশির ভাগ জায়গায় এখনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই।
এনএএন টিভি
Like this:
Like Loading...
Related