নরসিংদী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হামিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজ সকাল থেকে দিন ব্যাপী নরসিংদী ভেলানগর (জেলখানা মোড়) থেকে জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
জানা যায়, নরসিংদীতে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে দোকানপাট বসিয়ে অর্থনৈতিকভাবে ফায়দা লুটছে এলাকার কতিপয় ব্যক্তিবর্গ। কিছুদিন পরপর সড়ক ও জনপদ বিভাগ এই উচ্ছেদ অভিযান চালালেও পুনরায় দোকানপাট বসিয়ে ফের অর্থনৈতিকভাবে ফায়দা লুটে নেয় কতিপয় ব্যক্তিরা। ফলে এই উচ্ছেদ অভিযানের উদ্দেশ্য বার বার ব্যর্থতায় পরিণত।
এলাকাবাসী জানায়, উচ্ছেদ অভিযানে অস্থায়ী স্থাপনা কাঁচা ঘর উচ্ছেদ করা হলেও কোন অদৃশ্য কারণে স্থায়ী স্থাপনা দালান কোঠাগুলোর একটিও উচ্ছেদের আওতায় আনেনি কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসী জানায়, প্রায় দীর্ঘ দুই বছর আগে এই উচ্ছেদ অভিযান চালায় সড়ক ও জনপদ বিভাগ। অভিযানের পরপরই আবার নতুন করে স্থাপনা গড়ে তোলে এলাকার কতিপয় চিহ্নিত ব্যক্তিরা। সে সময় ওই দপ্তরের কর্তা ব্যক্তিরা কোনো ভূমিকা পালন করে না। ওই সময় তাদেরকে বাধা দিলে বা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে রাখলে এই স্থাপনাগুলো গড়ে তুলতে পারতনা, আর আজকে এই উচ্ছেদ অভিযানও চালাতে হতো না।

অপর এক এলাকাবাসী জানায় চোর পুলিশ খেলা আমরা আর কতদিন দেখবো? একদিকে উচ্ছেদ অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ ঠিক এর পেছন দিয়েই আবারও অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলে এলাকার চিহ্নিত ব্যক্তিরা। এর অবসান হওয়া দরকার।
উচ্ছেদ অভিযানের আওতায় পড়া ভেলানগর জেলখানা মোড়স্থ কাঁচাবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, কিছুদিন পরপর এই উচ্ছেদ অভিযান আমাদের মত গরিব মানুষের পেটে লাথি মারা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের বসার মত নির্দিষ্ট একটা জায়গা করে দিলে আমরা সেখানেই দোকান খুলে বসতে পারতাম। আজ যেই মাত্র দোকান খুলে বসেছি আর তখনই এই উচ্ছেদ অভিযান। বেচা বিক্রি না হলে আমরা খাব কি?
নরসিংদী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হামিদুল ইসলাম এই উচ্ছেদ অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মহাসড়কের পাশের রাস্তা মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য, দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত করতে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে আমাদের এই উচ্ছেদ অভিযান। আজ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা চলমান থাকবে। আজ বৃহস্পতিবার ভেলানগর জেলা খানা মোড় থেকে জেলা হাসপাতাল মহাসড়কের পাশ্ববর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পর্যায়ক্রমে মাধবদী থেকে ভৈরবের আগে নরসিংদীর সীমান্ত পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে।’
এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন নরসিংদী জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: ফয়জুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সড়ক ও জনপদ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো: ছাইদুর রহমান,নরসিংদী সড়ক ও জনপদ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো.রাশিদুল হক, নরসিংদী সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী লুৎফর রহমান মিরাজ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আল মামুন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম রাব্বি মল্লিক,উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম উজ্জল, নরসিংদী সড়ক ও জনপদ বিভাগের সার্ভেয়ার মাসুদ রানা, নরসিংদী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নকসা কারক আজাদুর রহমান
