নবাবগঞ্জে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন গ্রেপ্তার
নবাবগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তিনি ঢাকা উত্তরের যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি। গতকাল (রোববার, ২২ জুন) দিবাগত রাতে নবাবগঞ্জের আওনা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আজ (সোমবার, ২৩ জুন) সকালে ডিবি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
২০২৪ সালের৫ আগস্টের পর তার নামে রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা করা রয়েছে।
সাবিনা আক্তার তুহিন গতবছর ৫ আগস্টের পর নবাবগঞ্জে বাবার বাড়িতে ছিলেন বলে জানা যায়। এ সংবাদ পেয়ে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় রোববার রাতে অভিযান চালায় নবাবগঞ্জের আওনা এলাকায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন থানায় সাবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। এরপর থেকে তিনি নবাবগঞ্জে আত্মগোপনে ছিলেন। ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের সময় সাবিনা আক্তার ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে ভাঙচুর করছে।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় একজন নেতা বলেন, সাবিনা আক্তারের বোন হালিমা আক্তার ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আরেক বোন মামনী ভূঁইয়া ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে তদবিরবাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবিনা আক্তার নবাবগঞ্জে গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। সাবিনা আক্তার তুহিনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতায় উস্কানি ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবির পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, সাবেক এমপি সাবিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আইনজীবীরা বলছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। অন্যদিকে, ডিবি কর্মকর্তারা দাবি করছেন,“সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও মামলার ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কাউকে রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করা হচ্ছে না।”

One Reply to “সাবেক এমপি সাবিনা গ্রেপ্তার”
Comments are closed.