ঘন ঘন মাথা ব্যাথার কারণ কি?

মাথা ব্যাথার কারণগুলো বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক–

অতিপরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা গুলোর মধ্যে একটি হল মাথাব্যথা। মাথাব্যথা কোনো রোগ নয় এটি অন্য রোগের উপসর্গ হিসেবে প্রকাশ পায়। মাথা ব্যাথা হালকা, মাঝারি ও তীব্র হতে পারে। ঘনঘন তীব্র মাথা ব্যথা হলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়, সবকিছুই যেন বিরক্তিকর মনে হয়। মাথাব্যথা কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ মাইগ্রেন জনিত মাথা ব্যথা, টেনশন জনিত মাথা ব্যথা, ক্লাস্টার মাথা ব্যথা ইত্যাদি। ঘন ঘন মাথা ব্যথা ডিপ্রেশন এর ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া মাইগ্রেন জনিত মাথা ব্যথার সাথে অন্যান্য মাথাব্যথার বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।

মাথাব্যথার একটি অন্যতম কারণ হলো টেনশন। টেনশন জনিত মাথা ব্যথায় আক্রান্ত লোকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাইগ্রেন জনিত মাথা ব্যথা। মাথাব্যথা নানা কারণে হয়, মাথাব্যথার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো মাথায় আঘাত পাওয়া, দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ, দাঁতের রোগ, সাইনোসাইটিস, অত্যাধিক ঠান্ডা খাবার খাওয়া ইত্যাদি। যে কারণেই মাথাব্যথা হোক না কেন ব্যথা উপশমে আমরা সাধারণত মাথা ব্যথার ওষুধ সেবন করি।
আজ আমরা মাথা ব্যথার কারণ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। তাই এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।

মাথা ব্যথার কারণ

আজ মাথাব্যথার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো সম্পর্কে জানানো হবে। সচরাচর এই কারণগুলোর কারণে অধিকাংশ লোকের মাথা ব্যথা হয়। মাথাব্যথার উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো টেনশন বা মানসিক চাপ। তাছাড়া মাথাব্যথার অন্যতম কারণ গুলির মধ্যে রয়েছে-

অসুস্থতা জনিত কারণে মাথাব্যথা

কিছু রোগ রয়েছে যেগুলোর উপসর্গ হিসেবে মাথাব্যথা হতে পারে। যেমনঃ সর্দি ও জ্বর হলে মাথাব্যথা হয়, সাইনোসাইটিস হলে মাথা ব্যাথা হয়, নাক, কান ও গলায় সংক্রমণ হলে মাথা ব্যাথা হয়। মাথায় আঘাতের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে‌। অসুস্থতা জনিত কারণে মাথাব্যথা মাথাব্যথার একটি সাধারণ কারণ।

মানসিক চাপের কারণে মাথাব্যথা

অত্যাধিক মানসিক চাপ মাথাব্যথার একটি অন্যতম কারণ। মানসিক চাপ ও হতাশায় মাথাব্যথা হয়। এ ধরনের মাথাব্যথা লাইফ স্টাইলের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। ঠিকমতো খাবার দাবার না খাওয়া, ঘুমের ধরনের পরিবর্তন অর্থাৎ পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমানো, টিভি, কম্পিউটার বা স্মার্টফোন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ব্যবহার করার কারনেও মাথাব্যথা হতে পারে।

পরিবেশ দূষণের কারণে মাথাব্যথা

আমাদের আশেপাশের পরিবেশের দূষণের কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। বেশিরভাগক্ষেত্রে শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণের কারণে মাথাব্যথা হয়। তাছাড়া আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলেও মাথাব্যথা হতে পারে। গৃহস্থালীর পারফিউম, অ্যারোসল, মশার কয়েল ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ ও ধোঁয়ার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। আশেপাশে হট্টগোল বা উচ্চ শব্দের কারণে মাথাব্যথা হয়। এই কারণগুলো মাইগ্রেন জনিত মাথাব্যথা বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

জেনেটিক কারণে মাথাব্যথা

মাথাব্যথা বিশেষ করে মাইগ্রেনে জনিত মাথাব্যথা জেনেটিক কারণেও হয়ে থাকে। যদি মা-বাবা উভয়ের মাইগ্রেন জনিত মাথাব্যথা থেকে থাকে তাহলে সন্তানের মাইগ্রেন জনিত মাথাব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা ৭০% থাকে। আর যদি পিতা-মাতা উভয়ের যেকোনো একজনের মাইগ্রেন জনিত সমস্যা থেকে থাকে তাহলে সন্তানের মাইগ্রেন হওয়ার সম্ভাবনা ২৫% থেকে ৫০% থাকে। ঠিক কি কারণে মাইগ্রেন হয় সেটা সঠিকভাবে এখনো জানা যায়নি। অত্যাধিক শারীরিক কার্যকলাপ প্রাপ্ত বয়স্কদের মাইগ্রেন এর একটি কারণ হতে পারে।

উপরে উল্লেখিত কারণগুলো মাথাব্যথার সবচেয়ে পরিচিত কারণ। আমরা সচরাচর মাথাব্যথা কমাতে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকি। মাথাব্যথার কারণ শনাক্ত করে সঠিক ওষুধ খেতে হবে। এজন্য অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। মাথাব্যথার জন্য দায়ী অথবা মাথাব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে এমন বিষয়গুলো সবসময় এড়িয়ে চলতে হবে।