গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন কারুশিল্প হাতপাখা

প্লাস্টিক হাতপাখার দাপটে গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন কারুশিল্পের নানা ডিজাইনের হাতপাখা । এটি অতি প্রাচীন। কিন্তু বৈদ্যুতিক পাখা, এসি বা প্লাস্টিকের হাতপাখার দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে তাল পাতা, বাঁশের কঞ্চি, লাল কাপড়ে মোড়ানো হাতপাখা । যখন বিদ্যুত ছিলনা, তখন থেকেই লোকজন হাতপাখার উপর নির্ভরশীল। সেই থেকে আজ পর্যন্ত নানাভাবে পাখার ব্যবহার চলছে গ্রামীন জনপদে।

গরমে বাতাসকে চলমান করে, গরম হাওয়া সরিয়ে অপেক্ষাকৃত শীতল হাওয়া প্রবাহের জন্য হাতপাখার ব্যবহার শুরু হয়। গ্রামাঞ্চলের নরনারীরা এখনো গরমে হাতপাখা ব্যবহার করে থাকে। তবে কম সংখ্যক। কিছু পাখা এখনো টিকে আছে ঐতিহ্য ধারণ করে। এ পাখা তৈরি ও ব্যবহারের ইতিহাস প্রাচীন।

তালপাতা ছাড়াও সুতা, বাঁশ, বেত, খেজুরপাতা, শোলা, শন, গমের কাঠি ও ময়ূরের পালক দিয়ে নকশি পাখা তৈরি করা হয়। বিভিন্ন রংয়ের কাপড়ে চমৎকার ডিজাইন করা হয় হাতপাখায়।শীতের মাঝামাঝি সময়েই তালপাতার পাখা তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। তালপাতা, বাঁশের কঞ্চি ও সুঁই-সুতা হলো পাখার উপকরণ।

তালপাতা ও কাপড়ের তৈরী পাখা  তৈরি ও বিক্রি করে এখনো অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে। অন্যদিকে সর্বত্র বিদ্যুতের লাইন যাওয়ায় বাংলার এ জনপ্রিয় লোকশিল্পকর্ম ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। তবে হাতপাখার বাতাস এখনো প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। চিরায়ত বাংলায় হাতপাখা আজও গরমে শরীর জুড়ায়। কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় এখনো হাতপাখার কদর কমেনি কিছু কিছু এলাকায়।

আধুনিক যুগে হাতপাখা খুব একটা আবেদন তৈরি না করলেও, গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে এর প্রয়োজনীয়তা ঠিকই টের পাওয়া যায়। পুরোপুরি পরিবেশ বান্ধব এই পণ্য সেকেলে হয়েছে অনেক আগেই। তবে একেবারে হারিয়ে যায়নি। গ্রাম বা শহরের লোকজনরা এখন কিছুটা নির্ভরশীল হাতপাখা।

ঈদগাঁও এলাকার প্রবীণ মুরব্বি আহমদ হোসেন জানান, এলাকায় হাতপাখা পূবেকার দিনে বেশি দেখা যেতো। এখন হরেক রকমের ইলেকট্রনিক্স জিনিস পত্রের কারনে ঐতিহ্যময় পাখার তেমন একটা কদর নেই।

 

এনএএন টিভি / এম আবু হেনা সাগর

Share this news as a Photo Card