ঝিনাইদহে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক আ. লীগ নেতাকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি, আটক ৩

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটকের পর এক আওয়ামী লীগ নেতাকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা প্রকাশ না করার শর্তে ভিকটিম নারীর স্বামী ও তার দুই সহযোগী অভিযুক্তের কাছ থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী বাদী হয়ে তিনজনের নামে মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

রোববার (১০ মে) মহেশপুর থানা পুলিশ তাদের আটক করে।

আটকরা হলেন– মহেশপুরের খালিশপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমান, একই গ্রামের মিজানুর রহমান ছোট ও কুরিপোল গ্রামের মো. ফিরোজ।

পুলিশ জানায়, মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূ ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (৫ মে) খালিশপুর বাজারসংলগ্ন একটি বাড়িতে গিয়ে ওই গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা করেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। ঘটনার চার দিন পর গত শনিবার (৯ মে) সাজ্জাদুল ইসলামকে আসামি করে মহেশপুর থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন ওই নারী। পরে ওইদিন দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করে পুলিশ।

অন্যদিকে, একইদিন আটক সাজ্জাদুল ইসলামের স্ত্রী বাদি হয়ে তার স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আরও একটি মামলা করেন। এ মামলায় তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী তাহমিনা শম্পা গণমাধ্যমকে জানান, গত ৫ মে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা নিয়ে তার স্বামীকে ওই বাড়িতে ডেকে নেয় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকারী নারী। পরে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসিয়ে টাকা ও চেক আদায় করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সেই চেক আনতে গেলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকারী নারী গণমাধ্যমকে বলেন, বাড়িতে একা থাকার সুযোগে সাজ্জাদুল ইসলাম তাকে হেনস্তার চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে আটক করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে অর্থ লেনদেন হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা এবং গোপন সালিস অনুষ্ঠিত হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হামিদুল ইসলাম জানান, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান বলেন, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে জিম্মি করে টাকা আদায় ও চেক নেওয়ার অভিযোগেরও প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।