অষ্টম থেকে একাদশ শতাব্দী, প্রায় তিনশ বছর ধরে ইউরোপজুড়ে ভয় আর বিস্ময়ের প্রতীক ছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দুর্ধর্ষ সমুদ্র যোদ্ধা ভাইকিংরা। যুদ্ধকৌশল, অসাধারণ নৌ-চালনা, বাণিজ্য ও অভিযাত্রার মধ্য দিয়ে তারা গড়ে তুলেছিল এক অনন্য ইতিহাস।
শতাব্দী পেরিয়ে সেই ভাইকিং ঐতিহ্যের প্রতিধ্বনি যেন আবারও শোনা যাচ্ছে ফুটবলের মঞ্চে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নরওয়ে যেন নতুন করে ফিরিয়ে আনছে সেই গৌরবময় ভাইকিং চেতনা। ম্যাচ জয়ের পর ড্রামের তালে নৌকার বইঠা বেয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীকী ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে যেন ফিরে আসে শতাব্দীপ্রাচীন ভাইকিং ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি।
ইতিহাসের সেই গৌরবকে সঙ্গী করেই নরওয়ে এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তাদের ‘ভাইকিং রো’ পার করে ফেলেছে রাউন্ড অব থার্টি টু এর ঢেউ-ও। আইভরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় তাদের সামনে এবার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা— পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আগামী রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় নিউজার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দু’দল।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, দু’দলের লড়াইয়ে এগিয়ে নরওয়েই। চারবারের দেখায় ২টিতে জয় পেয়েছে নরওয়ে এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ১৯৮৮ ও ২০০৬ সালের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ দুটি ১-১ গোলে ড্র হলেও ১৯৯৭ সালের প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল ভাইকিংরা। এই দুই দলের লড়াইয়ে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি আসে ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন ফ্রান্স বিশ্বকাপে, যেখানে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় নরওয়ে।
অন্যদিকে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলও রয়েছে দুর্দান্ত ফর্মে। দীর্ঘদিন পর চোট কাটিয়ে দলে ফেরা নেইমার জুনিয়র বেঞ্চে থাকলেও ভিনিসিউস জুনিয়র, রদ্রিগো এবং মার্টিনেলিদের আক্রমণভাগ বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে বিশ্বখ্যাত মাস্টারমাইন্ড কোচ কার্লো আনচেলত্তির ট্যাকটিস। যার ফল দেখা গেছে শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষের কার্যকরী আক্রমণে শেষ মুহূর্তে গোল করে জয় ছিনিয়ে নেওয়ায়।
এখন ব্রাজিলিয়ান সাম্বার ঢেউয়ে নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’ আটকাবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবল দুনিয়া।
