অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্র যা দিয়ে ঘন্টায় ১বিঘা জমির ধান কেটে বস্তা ভর্তি করা যায়

গত বুধবার ১৬ এপ্রিল ময়মনসিংহ জোনের আওতায় বাংলা মার্কের কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার শুভ উদ্ধোধন করেন এই কৃষি কর্মকর্তারা। ২০২৫ সালের রোপন করা বোর ধান কাটা মৌসুমের শুরুতেই যান্ত্রিক ভাবে ধান কাটা শুরু হয়েছে ।

ময়মনসিংহ জুনের আওতায় বুধবার সকালে নেত্রকোনা জেলার কৃষক আটপাড়ার আওলাদের মাঠে যন্ত্রটি দিয়ে ধান কাটা শুরু হয়। এসময় কৃষি যান্ত্রিকিকরণ প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ মো: মঞ্জুরুল আলম , বাংলা মার্ক এর প্রকল্প ম্যানেজার মো: রফিকুল ইসলাম, নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ নুরুদজ্জামান উপস্থিত থেকে ধান কাটা শুভ উদ্ধোধন করেন । বাংলাদেশে কৃষকদের সুবিধার্থে বাংলা মার্ক নামের একটি কোম্পানী কৃষি যন্ত্র নিয়ে মাঠে কাজ করছে। এদেশের কৃষিকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে সরকার ভুর্তকি মূল্যে বিতরণ করছে কম্বাইন হারভেস্টার । কৃষকরা এই আধুনিক যন্ত্রটি ব্যবহার করে সারা জাগিয়েছে কৃষকদের মাঝে । এই চমৎকার মেশিনটি দিয়ে প্রতিদিন ১৫০ জন শ্রমিকের কাজ সম্পুন্ন করা হয়। ১৫০ জন শ্রমিক কাজ করলে খরচ হয় দেড় লাখ টাকা আর এই যন্ত্রটি ব্যবহারে খরচ হয় ৩০ হাজার টাকা ।

বাংলাদেশে ১২ ক্যাটাগরি কোম্পানী থেকে যেমন এসিআই , বাংলা মার্ক, মেটাল এধরনের যন্ত্র মাঠে রয়েছে । তার মধ্যে বাংলা মার্ক কম্বাইন হারভেস্টার সারা দেশে ব্যবহার হচ্ছে। এ যন্ত্রটি কৃষকের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নতুন কম্বাই হারভেস্টার ধান কেটে কৃষকের বাড়িতে পৌছে দিচ্ছে । এই যন্ত্রটি এক একর জমি কাটতে ৮ লিটার ডিজেল লাগে । চালক সহ যার খরচ ২ হাজার টাকা প্রতি ঘন্টায় ১ বিঘা দিনে ২৫ থেকে ৩০ একর জমির ধান কাটতে পারে । খরচ দিনে ৩০ হাজার টাকা শ্রমিক হলে সেখানে লাগতো দেড় লাখ হাজার টাকা । কৃষি বিভাগ আধুনিক প্রযুক্তিতে কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার প্রকল্পের
আওতায় এই যন্ত্র গুলো মাঠে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ভর্তকি মূল্য হিসাবে সমতল ভূমিতে ৫০% আর হাওড় অঞ্চলে ৭০% ভুর্তকি মূল্য দিয়েছেন। কৃষিতে যান্ত্রিকিকরণ এবং কৃষি প্রযুক্তি বৃদ্ধি সম্প্রাসারণ প্রকল্প যান্ত্রিকি করণের মাধমে সারাদেশে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করা হচ্ছে ১০ হাজার ৮১টি ।

এছাড়াও অন্যান্য ছোট খাট যন্ত্র মিলে ৪০ হাজার যন্ত্র কৃষকদের কৃষি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলা মার্কের প্রকল্প ম্যানেজার জনাব মো: রফিকুল ইসলাম জানান সিলেটের হাওড় অঞ্চলে ও কিশোরগঞ্জের ভাটি অঞ্চলে বর্তমানে বোর ধান কাটার কাজে আমাদের কোম্পানীর যন্ত্র গুলো বেশি ব্যবহার হচ্ছে। কৃষি যান্ত্রিকিকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জনাব কৃষিবিদ মো: মঞ্জুরুল আলম বলেন বর্তমান কৃষিতে আধুনিকতা আনার লক্ষ্যে কৃষকের সময় ও শ্রম বাচাতে খরচ কমাতে বাংলাদেশে যান্ত্রিকিকরণ শুরু হয়েছে । যন্ত্রগুলো ব্যবহারের ফলে আধুনিক বিশে^র কৃষি খাতকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে । ইতি পূবেই কয়েক হাজার কৃষককে এই যন্ত্রের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। যন্ত্র চালক তাদের কেউ যথাসময়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অভিঞ্জতা অর্জন করে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের যান্ত্রিকিকরণ কাজে নিরভর হয়ে কৃষি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । কৃষি বৈজ্ঞানিকদের মতে কৃষি কর্মকর্তাদের মতে উপজেলা, জেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা বর্তমান সময়ে ২০২৫ সালের চলতি বোর মৌসমের শুরু থেকেই কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জানিয়েছেন যে কোন কৃষকের ক্ষেতের ধান ৮০% পাকা হলেই কেটে বাড়িতে নিয়ে আসতে হবে ।

এনএএন টিভি  / ইউসুফ আলী মন্ডল

Share this news as a Photo Card