কলাতলীতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা কাঁচা বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। উদ্ধার করা হয় ৫৫ শতক জমি। যার মূল্য আনুমানিক শতকোটি টাকা।
গতকাল সকাল দশটা থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন কউকের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা বেগম।
জানা যায়, কক্সবাজারের কলাতলী বাজারে সবকটি অবৈধভাবে দখলে থাকা দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রথম অভিযান শুরু হলে ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে টিন ও বাঁশ দিয়ে সড়কে বেরিকেড দিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। তীব্র গরমে ভোগান্তি পোহাতে হয় পর্যটকসহ সাধারণ পথচারীরা।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন তা সরিয়ে নিলে আবারও গতি ফিরে সড়কে। পরে আবার অভিযান শুরু করলে প্রশাসনের কাজে আবারও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় ব্যবসায়ীরা। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় সরকারি কাজে বাঁধা না দেওয়ার জন্য অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা লক্ষ লক্ষ টাকা সেলামি দিয়ে দখলের স্বত্ব কিনেছেন। প্রতিদিন একটি গ্রুপকে প্রতি দোকান অন্তত ৫শ টাকা চাঁদা দিতে হয়। সবমিলিয়ে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকার ওপরে চাঁদা দিতে হয়। কোন নোটিশ না দিয়ে দোকান উচ্ছেদ তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা বলছেন, যা টাকা লাগে তারা তা-ই দিতে রাজি। তাঁদের যেন স্থায়ী পুনর্বাসন করে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের বাইরে তারা আর কাউকে চাঁদা দিবেননা। যদি দিতে হয় সরকারী ভাবে রাজস্ব দিতে রাজি আছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, আদালতের দোহাই দিয়ে কয়েকজনের সিন্ডিকেট প্রতিদিন তাঁদের দোকান ভাড়া ও লাইটের কথা বলে প্রতি দোকান থেকে দৈনিক ৫শ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এভাবে দৈনিক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে যাচ্ছে ঐ সিন্ডিকেট।
কউকের অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ রিশাদ উন নবী বলেন, কলাতলী বাজারের মালিক কউক। এখানে ব্যক্তি মালিকানাধীন কারো জায়গা নেই। কলাতলীস্থ কউকে মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা কাঁচাবাজার উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। টানা কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ৫৫ শতক জমির সম্পূর্ণ অবৈধ দখল মুক্ত করা সম্ভব হয়। এ জমির বাজার মূল্য প্রায় ১শ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে কউকের সচিব সানজিদা বেগম বলেন, উক্ত জায়গার মালিক কউক। এই জায়গা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল ছিল। সরকারী জায়গায় নোটিশ দেওয়ার কোন প্রয়োজন পড়েনা। সরকারি জায়গার মালিক একমাত্র সরকার। সাময়িকভাবে কেউ থাকলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, কউকের নিজস্ব জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি দালালচক্র অবৈধভাবে বাজার বসিয়ে দৈনিক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সরকারি জমি ভোগদখলে রাখে। সরকারি জমি উচ্ছেদ করতে গেলে চিহ্নিত দালাল চক্র কিছু ব্যবসায়ীদের লেলিয়ে দিয়ে সড়ক অবরোধসহ নানাভাবে বিক্ষোভে সরকারি কাজে বাঁধা দেয় এবং সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ, র্যাব ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়নের জন্য এ জায়গায় সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে বহুতল ভবন হবে। আমরা একটা তালিকা পেয়েছি। ঐ তালিকা যাচাই-বাছাই করা হবে।
তিনি আরও জানান, কক্সবাজারকে একটি সুপরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ।
এনএএন টিভি / এম আবু হেনা সাগর
