কাঞ্চন সেতুতে প্রতিদিন ১২-১৩ লাখ টাকা টোল আদায়

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন সেতুর টোল প্লাজায় প্রতিদিন পরিবহনগুলো থেকে কমপক্ষে ১২–১৩ লাখ টাকার টোল আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে ইঞ্জিনিয়ার আবির টোলের আদায়কৃত টাকার সিংহভাগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিচ্ছে।

সওজের দাবি, সরকারের সিদ্ধান্তেই টোল আদায় করা হয় সেতু থেকে।

অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্থানীয় সরকারদলীয় ব্যক্তিবর্গকে চাঁদা দিয়ে অব্যাহত রাখা হয়েছে টোল আদায় ।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা জানান, সেতু থেকে স্থানীয় ৮/১০ জন নেতা মাসিক হারে টাকা পেয়ে থাকেন।

সেতু ও সেতুসংলগ্ন রাস্তাঘাট মেরামতে নেই যথাযথ উদ্যোগ।

রূপগঞ্জের শীতলক্ষা নদীর ওপর নির্মিত কাঞ্চন সেতুতে টোল আদায়ের কারণে যানজট সব সময় লেগেই থাকে।

ধীর গতির এ টোল আদায়ের কারণে যানজটে জনদূ্র্ভোগ চরমে পৌছেছে।

শীতলক্ষা নদীর কাঞ্চন সেতুর কাছাকাছি রয়েছে আরও ৩টি সেতু।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মুড়াপাড়া এলাকায় গাজী সেতু, তারাব এলাকায় সুলতানা কামাল সেতু ও কাচঁপুর এলাকায় কাচঁপুর সেতু।

এসব সেতুতে কোন টোল আদায় না হলেও শুধু কাঞ্চন সেতুতে টোল আদায় করা হচ্ছে গত ১৩ বছর ধরে।

আর এ কারণে স্থানীয় লোকজন এ টোল আদায় বন্ধ করতে সরকারের কাছে আবেদন, প্রতিবাদে মানববন্ধন করলেও কাজ কিছু হয়নি।

কাঞ্চন সেতুর এ টোল আদায় বর্তমানে পাবলিক প্রাইভেট পারটনাশীপ প্রকল্পে ন্যাস্ত হওয়ায় টোল আদায়ে ধীরগতি ও জন দূরভোগ চরমে পৌছেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেটের সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সেতুটি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের সময় ১০ বছর পর্যন্ত টোল আদায় করার কথা বলা হয়েছিল বলে  জানা গেছে।

সে অনুযায়ী ২০১৬ সালে সেতুটির টোল আদায়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও টোল আদায় এখনও চলছে।

উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্বোধনকালীন সময় থেকে বর্তমানে এ রুটে যান চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০ গুণ।

দিনে অন্তত ১৬/১৭ হাজার যানবাহন এ রুটে চলাচল করে বলে জানা যায়।

২০২৫ সালে হাইওয়ে রাস্তার কাজ শেষ হলে এখানে টোল আদায় থাকবে না, তবে ঢাকা বাইপাস রোডের টোল আদায় হবে।

 

এনামুল হক

 

এনএএন টিভি