বগুড়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খোলা, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক, ব্যক্তিগত ছবি এবং অনলাইনে হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের মতো ঘটনায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ভুক্তভোগীদের মধ্যে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারী ও শিক্ষার্থীরা। এমনকি জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারাও সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন।
জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরে জেলায় ৫০টির অধিক সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অনেক আসামিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
জানা গেছে, বগুড়ার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সংশ্লিষ্ট ইউনিটেও এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সাইবার হয়রানিও বাড়ছে। তবে অনেক নারীই জানেন না, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ভুক্তভোগী সাইবার ইউনিট বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে যান।
ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া, ফেসবুক আইডি হ্যাক করে হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়, ছবি বা ভিডিও সম্পাদনা করে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো, পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত কনটেন্ট ব্যবহার করে হয়রানি, ভুয়া আইডি তৈরি, ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া এবং হয়রানিমূলক এসএমএস, ই-মেইল বা লিংক পাঠানোর মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।
বগুড়া ডিবির সাইবার ইউনিটের ইনচার্জ পরিদর্শক শামীম বলেন, কিশোর, তরুণ ও যুবকদের একটি অংশ এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। নিয়মিত অভিযোগ আসছে এবং এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, ভুক্তভোগীদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।
তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রতারক চক্রের সদস্যরা নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় কিংবা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। দাবি পূরণ না হলে কারও কারও ছবি বা ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়। এ ধরনের অভিযোগের পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগও বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, শুধু ডিবি পুলিশের কাছেই সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ৫০টির বেশি অভিযোগ এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সাল থেকে বগুড়া ডিবির সাইবার পুলিশ ইউনিট সাইবার অপরাধ দমনে কাজ করছে। অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার শিকার অনেক নারীরা এ ইউনিটে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রেখে এবং পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। ডিবি পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন ও সিআইডিতেও সাইবার অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগ ও মামলা আসছে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, জেলার প্রতিটি থানায় নিয়মিত সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ছে। এসব অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ ধরনের ঘটনায় প্রযোজ্য আইনে মামলা হচ্ছে। তদন্তের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধের শিকার হলে ভয় বা সামাজিক সংকোচে চুপ না থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।
