বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উপাচার্যের উপস্থিতিতেই এক কর্মকর্তাকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভিসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটলেও পরদিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে তা প্রকাশ্যে আসে।
মারধরের শিকার ওই কর্মকর্তার নাম রফিকুল ইসলাম, যিনি বাংলা বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার। তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের চার নেতা ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতার বিরুদ্ধে।
আহত রফিকুলকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তার মাথায় একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় পরদিন তিন সদস্যের একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রথমে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সহসভাপতি ড. জিয়াউল হক তাকে ঘুষি মারেন। পরে ফোরামের সভাপতি ড. রোকনুজ্জামানসহ অন্যরা মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে করিডোরে নিয়ে ফুলের টব ও কাচের বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এ সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার রেজাউল ইসলাম লাবুও হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সময় উপাচার্য নীরব ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন রফিকুল ইসলাম। তবে উপাচার্য দাবি করেছেন, মারামারি শুরু হলে তিনি তাদের বের করে দেন। পরে বাইরে গিয়ে তারা হাতাহাতিতে জড়ান।
অভিযোগ অস্বীকার করে কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি ড. রোকনুজ্জামান বলেন, রফিকুল ইসলাম আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে এলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, মারামারি নয়।
এ ঘটনায় তিন সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। উপাচার্য ড. শওকাত আলী জানিয়েছেন, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ অক্টোবর ইউজিসিতে পাঠানো একটি অভিযোগপত্রকে কেন্দ্র করে। এতে ইতিহাস বিভাগের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টদের পুনর্বাসন ও অন্যান্য বিষয়ে অভিযোগ তোলা হয়। তবে চিঠিতে স্বাক্ষরকারী হিসেবে উল্লেখিত অতিরিক্ত পরিচালক আমিনুর রহমান সেটি পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, চিঠির হাতের লেখা তার নয়। প্রয়োজনে ফরেনসিক পরীক্ষা করা যেতে পারে।
