‎মতলব দক্ষিণে চুরি-ছিনতাই – খুন; আইনশৃঙ্খলার অবনতি

এক দিনে মাত্র ৪ ঘন্টায় পাঁচ বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায়। গেল ১মাসে মোট ৮ টি চুরি , ছিনতাই ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে ভুক্তভোগীরা । এমন চাঞ্চল্যকর চুরি, ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে ।  গত ২২ এপ্রিল মতলব পৌরসভার ৫ টি বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। পৌরসভার আলু ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বাড়ির তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া আরিফের বাসায় চুরির ঘটনায় প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণ ও ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায় । এসময় আরিফের স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রী তার কর্মস্থলে ছিলেন। একই দিনে মতলব বাজারের জামান প্লাজার সামনে ৫ তলা ভবনের ৪ তলার ভাড়াটিয়া সৌদি প্রবাসী দীপু প্রধানের স্ত্রীর রুমের তালা ভেঙে প্রায় ৮৩ হাজার টাকা নিয়ে গেছে চোর চক্রটি।

‎এদিকে মতলব পৌরসভার সামনে মরহুম ফারুক হোসেনের ভবনের ৩য় তলার ভাড়াটিয়া কলেজ শিক্ষক প্রভাষক ফেরদৌস আলমের বাসার তালা ভেঙে ভিতরে ডুকার চেষ্টা করে চোর চক্রের সদস্যরা।

‎একই দিনে পৌরসভার টিএনটি এলাকায় দিনের বেলায় সুমন নামের এক ব্যক্তির বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকিরগাঁও গ্রামের মোরশেদ খানের ইলেকট্রনিক দোকানে চোর ডুকে ইলেকট্রনিক মালমাল নিয়ে যায় চোর চক্রটি।

‎এপ্রিলের ১৬ তারিখ মতলব পৌরসভার কলাদি এলাকার পশু হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন কলেজ শিক্ষক সুব্রত দাসের বাসায় চুরির ঘটনায় নগদ টাকা ও তার স্ত্রীর স্বর্ণ খোয়া যায়।

‎এছাড়া, ঈদুল আযহা ঘিরে সক্রিয় থাকা ছিনতাইকারী চক্র মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও ব্রিজের সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় ২৫ মে রাত আনুমানিক ৮ টায় ইসমাইল হোসেন নামে এক পথচারীকে ছুরিকাঘাত করে কুরবানীর টাকা সহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়।
‎গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল-এ পাঠান।

‎ইসমাইল বলেন, “কোরবানির জন্য রাখা টাকা ও পরিবারের ঈদের বাজার নিয়ে যাচ্ছিলাম। তারা জোর করে সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে আমার গলায় ও পিঠে আঘাত করে।”

‎এদিকে গত ৩০ মে দক্ষিণ দিঘলদী এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হয়ে আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী (৬৫) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জুন মারা যান।

‎এসব বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান মানিকের সাথে সরাসরি দেখা করতে চাইলে তিনি থানার বাইরে আছেন বলে এড়িয়ে যান। বিষয়গুলো সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি পরবর্তী ২/৩ দিন পর বিস্তারিত জানাবেন বলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন তথ্য জানাননি।
‎এসব বিষয়ে মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার  (এএসপি) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, আমরা অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।