হত্যা মামলায় অভিযুক্ত গোপালগঞ্জের মান্না মোল্লাকে বিএমএফ থেকে বহিষ্কার

একটা মানবাধিকার সংগঠন এর গোপালগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন মান্না মোল্লা। তিনি যুবলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সংগঠনটির জেলা সভাপতি হলেও তিনি বিভিন্ন জায়গায় জেলার চেয়ারম্যান পরিচয় দিতেন। মানবাধিকার এর চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে জেলার বিভিন্ন দপ্তরে সে তদবির বানিজ্যে লিপ্ত ছিল।

নিজেকে চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে স্ত্রীকে বানিয়েছিলেন সেই সংগঠন এর বিশেষ প্রতিনিধি। জেলার সকল দপ্তরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে কামিয়েছেন কোটি টাকা। এদিকে গোপালগঞ্জ সদরের ঘোনাপাড়ায় বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে একক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিমের খুব আস্থাভাজন। আর সেই সুবাদে ঘোনাপাড়ায় অন্য কাউকে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে দিতেন না। আর তার ভয়ে ওই এলাকায় কেউ ব্যবসা করতেও যেতেন না। গোপালগঞ্জে শেখ সেলিমের আস্থাভাজন হওয়াত টেন্ডার বানিজ্য করে কমিশন নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। ৫ ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পলায়নের পর এই মান্না মোল্লা চলে যান আত্নগোপনে। মুকসুদপুর উপজেলার গোপিনাথপুর ক্যাম্পের সামনে সেনাবাহিনীর গাড়ি ভাংচুরের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল মান্না মোল্লা। গোপালগঞ্জে নিজ এলাকায় যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী।এ সময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী (দিদার) নিহত এবং আহত হন অর্ধশত নেতা–কর্মী।এই ঘটনায়

সরাসরি জড়িত ছিলেন এই মান্না মোল্লা। ঘোনাপাড়া মোড়ে উক্ত হামলার ঘটনায় মান্না মোল্লা সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিএনপির করা মামলায় মান্না মোল্লার নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও মানবাধিকার এর চেয়ারম্যান এর পরিচয় দিয়ে সে সময় নাম কাটিয়ে নেন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি গ্রামে থাকতেন না। চাচাত ভাইয়ের বাসা ঢাকার ভাটারায় আত্নগোপনে থেকে শেখ হাসিনার নির্দেশ পালন করতেন। ঢাকায় কিভাবে ঘুরে দাড়ানো যায় সেসব নিয়ে যুবলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন এই মান্না মোল্লা। ঢাকায় যে কয়টা গুপ্ত চোরা মিছিল হয়েছে সবগুলোতে এই কুখ্যাত মান্না মোল্লার সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল। এসব হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত থাকায় মান্না মোল্লা অভিযুক্ত হয়েছে দুইটি মামলায়। ইতিমধ্যে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মান্না মোল্লার নামে মামলা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্য আসামীর সাথে মান্না মোল্লাকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জকে আদেশ দিয়েছেন আদালত। মান্না মোল্লার স্ত্রী সদর উপজেলা যুব মহিলা লীগের একজন সদস্য হিসাবে ব্যাপক পরিচিত। জেলার বিভিন্ন মানুষকে হুমকি ধামকি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেও এই দম্পতি হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। মান্নার শ্বশুর গোপালগঞ্জ আদালতের একজন দালাল। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে পরিবারের স্বজনদের নামে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করে থাকে এই দম্পতি। ফলে গোপালগঞ্জের আদালতে তার নিজের নামেও হালিখানেক মামলা আছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া নিজেরা বিভিন্ন মামলার আসামী হয়েও থানার অফিসারদের সাথে বিশেষ সখ্যতা থাকায় গোপালগঞ্জের বিভিন্ন মামলার তদবির বানিজ্যেও করেও হাতিয়েছে মোটা অংকের টাকা।
এদিকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এর জেলা কমিটির সভাপতি পদ সহ সকল দায়িত্ব থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এনএএন টিভি