মে মাসে উদ্বোধনের পর পুরোদমে শুরু হবে পায়রা বন্দরের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং।
প্রথম জেটির কাজও শেষের পথে। আসতে শুরু করেছে বিদেশি মাদার ভ্যাসেল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু এবং পায়রা বন্দরকে ঘিরে আগামীতে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরবে দক্ষিণাঞ্চল থেকে।
একদিকে পায়রা অন্যদিকে পদ্মা সেতু, এই দুইয়ে মিলে দক্ষিণাঞ্চলসহ সমগ্র দেশের অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তনের আশা করছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বপ্ন এবং প্রত্যাশার পদ্মা সেতু আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে গতি এনেছে।
এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দরেরও সুফল পাবেন তারা।
ইতোমধ্যে দ্রুততম সময়ে সড়কপথে পণ্য পরিবহন সুবিধা কাজে লাগাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।
তারা বলছেন- নৌপথের পাশাপাশি সড়কপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধায় পায়রা সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে আসবে নতুন গতি।
জানা যায়, দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা।
২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পটুয়াখালীর রামনাবাদ নদী তীরে এর ভিত্তিফলক স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্র বন্দর এটি।
বন্দরটিকে পূর্ণাঙ্গরূপ দিতে গত ৯ বছরে একের পর এক চলে উন্নয়নের মহা কর্মযজ্ঞ।
ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং।
ড্রেজিংয়ের কারণে দশ দশমিক পাঁচ মিটার গভীরতার চ্যানেল সৃষ্টি হওয়ায় বর্তমানে দেশের সব থেকে গভীর সমুদ্র বন্দর এটি।
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী নেতা সুলতান আহমদ মৃধা বলেন,
‘পদ্মা সেতুর কারণে ঢাকার সঙ্গে দূরত্ব কমেছে এ অঞ্চলের।
পায়রা বন্দরে দিয়ে বিদেশে আমদানি-রফতানির পণ্য পরিবহনে খরচ কম।
এসব কারণে এখানে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
কলাপাড়া উপজেলার লালুয়াতে নির্মিত হচ্ছে বন্দরের প্রথম জেটি। ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের জেটির কাজ প্রায় শেষের পথে।
মে মাসে প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর থেকেই বন্দরের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।
এদিকে পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প-
কারখানা স্থাপনে ইপিজেডসহ নানা ধরনের উন্নয়ন কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান।
আরও পড়ুন:
