হরমুজ বন্ধের ঘোষণার মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে ইরানের সামরিক বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করলেও, সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। খবর, বিবিসির।

রোববার (২১ জুন) ভোরে, সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে, শনিবার রাতে দেশটিতে পৌঁছেন, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

এই আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির।

চলমান সংকটের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে দেশটি এবং আগের আলোচনাগুলোর আয়োজন করেছিল তারা। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে পাকিস্তান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, আলোচনার লক্ষ্য হলো পারমাণবিক ইস্যু এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি আনা। লেবানন ইস্যুতে তিনি বলেন, সেখানকার আঞ্চলিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে, তবে তা নিরন্তর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে সমগ্র অঞ্চলকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখা যায়।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, তারা আলোচনায় অন্য পক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে বাধ্য করার দাবি জানাবে।

এর আগে, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক একটি সমঝোতা সই হয়েছে, যার লক্ষ্য লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। এতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর চলমান সংঘর্ষের কারণে। সাম্প্রতিক হামলায় লেবাননে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ডজনখানেক সদস্যকে হত্যা করেছে। একই সময়ে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছে বলেও জানানো হয় তাদের পক্ষ থেকে।

এদিকে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় আইআরজিসি হরমুজ বন্ধের দাবি করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ১৪-দফা সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারা বাস্তবায়ন না করার মাধ্যমে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। যেখানে লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে সামরিক অভিযানের অবিলম্বে ও স্থায়ী সমাধানের কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান এককভাবে প্রণালি বন্ধ করতে সক্ষম নয় এবং সেখানে জাহাজ চলাচল এখনো অব্যাহত রয়েছে।