দোয়া শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো চাওয়া। প্রার্থনা করা।
বিনয়ের সঙ্গে উপকার লাভের জন্য মহান রব্বুল আলামিনের দরবারে নিজের ক্ষতি ও
অপকার থেকে বাঁচার জন্য কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে চাওয়াই হলো দোয়া।
দোয়া ইবাদতের শামিল। আমরা সাধারণত কোনো বিপদে পড়লে বা দুঃখ-কষ্টে আবর্তিত হলে কিংবা কোনো জটিল সমস্যায় পড়লে বন্ধু বা আত্মীয়ের শরণাপন্ন হই।
তাদের সাহায্য চাই। অথচ এসব ক্ষেত্রে মুমিনের উচিত, কোনো বান্দার কাছে দুঃখ-কষ্ট বা সমস্যার কথা না বলে মহান রব্বুল আলামিনের দরবারে পেশ করা।
তাঁর সাহায্য চাওয়া। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি দুঃখ-কষ্ট, অভাব বা সমস্যায় পতিত হয়,
তা সে মানুষের কাছে না বলে আল্লাহর কাছে পেশ করে তাহলে অচিরেই আল্লাহ তাকে নিকটবর্তী বা দূরবর্তী রিজিক প্রদান করবেন।
রসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘আল্লাহ প্রত্যেক রাতে আসমানের নিচে নেমে আসেন এবং আহ্বান করেন,
কোনো প্রার্থনাকারী কেউ আছে কি? যদি কেউ কিছু চায় তাহলে আমি তাকে তা প্রদান করব। ক্ষমা চাইলে ক্ষমা,
রিজিক চাইলে রিজিক, বিপদ থেকে মুক্তি অর্থাৎ যে যা চাইবে আমি তাকে তা দেব সুবহানাল্লাহ।
এর চেয়ে আল্লাহর দরবারে আমাদের চাওয়ার আর কী আছে।
আমর ইবনু আম্বসা (রা.) বলেন, ‘বান্দা তার প্রভুর সবচেয়ে নৈকট্য লাভ করে যখন সে সিজদায় থাকে এবং যখন সে রাতের শেষ তৃতীয়াংশের সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ায়।
অতএব রাতের সে সময়ে যারা আল্লাহর জিকির করে, তুমি যদি তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পার, তাহলে তুমি হবে সফলকাম।
দোয়া কবুলের অন্যতম সময় হলো আজান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়। এ সময়ের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।
রোজার মাসে ইফতারের সময় দোয়া করলে আল্লাহ তাও কবুল করেন। জিহাদের ময়দানের দোয়াও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পছন্দনীয়।
শুক্রবার এমন একটি সময় রয়েছে তখন যে কোনো মুসলিম বান্দা দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
বড় আলেমদের মতে, সেই সময়টা আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত। কাবা শরিফের দরজার কাছে মুলতাজামে,
সাফা মারওয়া পাহাড়ের ওপরে, তাওয়াফের সময় এবং আরাফাতের ময়দানের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।
আরও পড়ুন:

Comments are closed.