দেশের হাসপাতালগুলোতে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অত্যাধুনিক মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তি আশার আলো জাগাচ্ছে।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত যন্ত্রটি দিয়ে প্যাথলজিক্যাল, অ্যানাটমিক্যাল, রাসায়নিক, সংক্রামক, তেজস্ক্রিয়, ধারালো, তরল ও উচ্চচাপীয় বর্জ্যকে
৩০ মিনিটে সাধারণ বর্জ্যে পরিণত করা যায়। এতে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কমে।
জনস্বাস্থ্যবিদরা জানিয়েছেন,
এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক জীবাণু যেমন-ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইট, ভাইরাস, ফাঙ্গাস ও সংক্রমণজনিত রোগব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
যে কেউ যন্ত্রটি পরিচালনা করতে সক্ষম। সব হাসপাতালে এটি চালু হলে মেডিকেল বর্জ্যর মাধ্যমে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণজনিত রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন দেশের তিনটি বড় হাসপাতালের চারটি মাইক্রোওয়েভ মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর মধ্যে, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দুটি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি এবং টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি।
মেশিনগুলো দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসা রোগীদের ব্যবহৃত গজ, ব্যান্ডেজ, কাপড়, সিরিঞ্জ, সুঁই, বোতল, স্যালাইন ব্যাগ,
নল, ছুরি-কাঁচি, শরীর থেকে কেটে ফেলা অংশসহ দৈনিক গড়ে ৩ হাজার কেজির বেশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।
বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকরা বলেন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি।
যে বর্জ্যে জীবাণু থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়, সেগুলো এই মেশিনে দেওয়া হয়।
মেশিনটির ভেতরে থাকা ধারাল ব্লেড দ্রুত ঘোরানোর মাধ্যমে সবকিছু মুহূর্তেই ডাস্ট হয়ে যায়। এগুলো টেক্সটাইল মিলের ফেলে দেওয়া সুতার মতো মনে হয়।
এর ফলে বর্জ্যগুলো আগের তুলনায় ৮৫ শতাংশ কম জায়গা দখল করে এবং ২৫ শতাংশ ওজন কমিয়ে ফেলে।
বর্তমানে মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, চীন, কম্বোডিয়া, তুর্কি মিস্তান,
উজবেকিস্তান, রাশিয়া, তাজাকিস্তান, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ৬০টিরও বেশি দেশে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হয়।

Comments are closed.