খাগড়াছড়িতে মো. মামুন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র দীঘিনালায় বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের জেরে রাতভর বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩ জন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। নিহতরা হলেন দীঘিনালার উদাল বাগান এলাকার ধনরঞ্জন চাকমা (৫০), খাগড়াছড়ি সদরের জামতলী এলাকার জুনান চাকমা (২০), স্বনির্ভরের বেলছড়ি পাড়ার রুবেল ত্রিপুরা। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মোতায়েন রয়েছে বিপুল পরিমান পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দীঘিনালা উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময়ে অগুনে পুড়ে দেয়া হয়েছে অন্তত ৬০টি দোকান। এসব ঘটনা ঘটার পর রাতেও দীঘিনালা, পানছড়ি ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কয়েকটি স্থানে দুর্বৃত্তরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকটি স্থানে যাতায়াত করতে গিয়ে রাতে দুর্বৃত্তদের বাধার মুখে পড়েছেন, আবার এসব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। রাত ১১টার দিকে পানছড়ি কলেজ গেট এলাকায় টহল দিতে গেলে দুর্বৃত্তদের বাধার মুখে পড়ে সেনাবাহিনীর টহল দল। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করে অজ্ঞাত যুবকরা পাহাড়ি বাসিন্দাদের কলেজ গেট এলাকায় জড়ো হওয়ার জন্য উসকানি দিয়ে আহ্বান জানায়। পাশাপাশি কলেজ গেট এলাকার পাশে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের গেট ও গাড়ি ভাঙচুর করে, রাত ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি শহরের নারানখাইয়া এলাকায় গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
খাগড়াছড়ি অধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিপল বাপ্পি চাকমা জানান, গতকাল রাতে ১২ জন চিকিৎসা নিতে আসে। তার মধ্যে তিনজন মারা যায়। চার জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের অবস্থা স্টেবল হওয়ায় এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এনএএন টিভি / বিপ্লব তালুকদার
