পাহাড়ি জনপদ ঈদগড়ে ডাকাতি-অপহরণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৪ জানুয়ারী রাতে ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের হিমছড়ি ঢালায় ডাকাতি সংঘটিত করে দুইটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে ডাকাতদল। এনিয়ে আবারো অশান্ত হয়ে উঠছে ঈদগড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। যেকোন মুহূর্তে ঈদগড়-ঈদগাঁও-বাইশারী সড়কে বড় ধরনের ডাকাতি অপহরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করেছেন এলাকাবাসী।
ঈদগড় সিএনজি সমিতির সভাপতি বলেন, ইতিপুর্বে পুলিশ ঈদগড়ে অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরন করেছিল। আমরা শান্তিতে ছিলাম। এখন সব ডাকাত ও সন্ত্রাসী জামিনে এসে আবারো ডাকাতি অপহরন শুরু করে দিয়েছে। তিনি জেল ফেরত চিহ্নিত ডাকাত ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করলে ঈদগড়ের আইনশৃংখলা পরিস্তিতি নিযন্ত্রণে থাকবে বলে দাবী করেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, ঈদগড়-ঈদগাঁও এবং ঈদগড়-বাইশারী ২৩ কিলোমিটার সড়কে ৭টি পয়েন্টে ২০২৪ সালে ৭ টি ডাকাতি, ২টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৪০ জনকে যাত্রীবাহি যানবাহনে ডাকাতি শেষে অস্ত্রের মুখে অপহরন করে মোটা অংকের মুক্তিপন আদায় করে সশস্ত্র ডাকাতদল। তার মধ্যে ২০১৪ সালে ১৫ জন, ২০১৫ সালে ১৩ জন, ২০১৬ সালে ৩ জন ও ২০১৭ সালে ৩ জনকে অপহরন করা হয়। এছাড়া পাহাড়ী এলাকার ধান ক্ষেতের টংঘর থেকে বিভিন্ন সময়ে আরো ৫ জনকে অপহরন করে মুক্তিপন আদায় ও বসতবাড়ীতে শতাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ঈদগড়ে আইনশৃংখলা পরিস্তিতি যখন চরম অবনতি হয়েছিল ইতিপুর্বে থানা পুলিশ ঈদগড়ের আইনশৃংখলা পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চিরুনি অভিযান শুরু করে ঈদগড়ের চিহ্নিত ডাকাত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরন করে এবং ঈদগড়ের ভুক্তভোগী বিক্ষুব্দ জনতা ডাকাত সর্দার সাহাব উদ্দীনকে ধরে এনে প্রকাশ্যে গনপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। সেই থেকে ঈদগড় ইউনিয়নের আইনশৃংখলা পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং ডাকাতি অপহরন অনেকটা কমে যায়।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কারাবন্দি থাকা সন্ত্রাসীরা জামিনে এসে ডাকাতি ও অপহরনসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড শুরু করেছে।
জানা যায়, ডাকাতেরা ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের পানেরছড়া ঢালা ও হিমছড়ি ঢালার অর্জুন বাগান গজালিয়া ধুমছাকাটা এই ৫ পয়েন্টে ও ঈদগড়-বাইশারী সড়কে ভেংডেভা রাস্তার মুখ অলিরঝিরি এই ২ পয়েন্টে হানাদিয়ে যাত্রীবাহি যানবাহনে ডাকাতি ও অপহরন করে গহীন অরন্যে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে ২টি পয়েন্টের মধ্যে ১ টিতে ঈদগাঁও থানার পুলিশ ও ১টি পয়েন্টে ঈদগড় ক্যাম্পের পুলিশী টহল জোরদার থাকলে ও বাকী পয়েন্ট গুলি অরক্ষিত থাকায় ডাকাতদল নির্বিঘ্নে ডাকাতি ও অপহরন করে চলে যেতে পারে।
ঈদগড়ে আইনশৃংখলা পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষে ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের ঢালায় ঈদগড় ক্যাম্পের পুলিশ বাহিনী টহল জোরদার করেছে। পুলিশের সদস্য সংখ্যা কম হওয়ায় প্রত্যেক পয়েন্টে পুলিশ চৌকি বসিয়ে টহল জোরদার করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়েছে ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই মনির। তিনি আরো জানান, ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পে মাত্র ১ জন অফিসার ও ১০ জন কনস্টেবল রয়েছে। ডিউটি করার জন্য একটি মাত্র যানবাহন । এই সল্প সংখ্যক জনবল ও যানবাহন সমস্যা নিয়ে আইনশৃংখা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখা কষ্টসাধ্য। তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে ঈদগড়ের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবেন বলে আশা করেন।
ডাকাতের কবল থেকে পালিয়ে আসা দৈনিক সৈকত প্রতিনিধি জাফর আলম বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের ব্যপারে দৌড়াদৌড়ি করে যখন রাতে ঈদগড় ফিরছিলাম হিমছড়ি ঢালায় যাওয়ার সাথে সাথে পুর্ব থেকে উৎপেতে থাকা ডাকাতদল গাছের টুকরো দিয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে আমাকে অমানবিকভাবে মারধর করে এবং সব কিছু কেড়ে নিয়ে পাহাড়ের ভিতর নিয়ে বেঁধে রাখে। পরে আমার ব্যবহ্নত মোটরসাইকেলটিও ছিনতাই করে নিয়ে যায় ডাকাতদল।
স্থানীয় লোকজন জানান, জেল ফেরত সন্ত্রাসীরা জামিনে আসার সাথে সাথে সড়কে ডাকাতি অপহরন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী শংকিত হয়ে পড়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের উপর নজরদারী বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশকে জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এনএএন টিভি / এম আবু হেনা সাগর
