মহানগরীর চন্দ্রিমা এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ এক ধর্ষক গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাদের টার্গেট ছিল বিধবা কিংবা স্বামী পরিত্যক্ত নারী। কায়দা করে বাসায় ডেকে নিয়ে তাদের ধর্ষণ করতেন মো. আলমগীর ওরফে রয়েল (৪০)। গোপনে সেই ধর্ষণের ভিডিও করে রাখতেন স্ত্রী হেলেনা খাতুন। একইভাবে হেলেনা খাতুন ও তার দুই বোনও ফাঁদে ফেলে পুরুষদের বাসায় নিতেন। জড়াতেন শারীরিক সম্পর্কে। তখন ভিডিও করতেন হেলেনার স্বামী আলমগীর।
শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে র্যাব-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, গত বৃহস্পতিবার এক নারী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম কোর্ট স্টেশনে গিয়ে তার মোবাইল ফোন হারিয়ে ফেলেন।
এ সময় আলমগীর তার ফোন উদ্ধারের কথা বলে কৌশলে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও করেন হেলেনা।
জানা যায়, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আদায় করা হতো বিপুল অঙ্কের টাকা। টাকা আদায়ে এই চক্রটি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে কিংবা চেকে স্বাক্ষরও নিয়ে রাখতেন। সর্বশেষ এক নারীর সঙ্গে এমন ঘটনার পর অভিযোগ পেয়ে র্যাব এই চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নগরীর বোয়ালিয়া থানার হেঁতেমখাঁ সবজিপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর রয়েল (৪০), তার স্ত্রী হেলেনা খাতুন (৩০), হেলেনার বড় বোন দিলারা বেগম (৩৫) ও তাদের সহযোগী চন্দ্রিমা থানার উপড়ভদ্রা এলাকার আফজাল হোসেনের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪২)।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস আরও জানান, পরে এ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন ও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন রাসেল ও তাঁর স্ত্রী।
টাকা না দিলে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যে জমি দাবি করেন এই চক্রের সদস্যরা। ভুক্তভোগী নারী ওই বাসা থেকে পালিয়ে এসে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান এবং থানায় মামলা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে র্যাব চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।
র্যাব অধিনায়ক আরও জানান, ওই বাড়িতে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন, আলমগীরের স্ত্রী হেলেনা খাতুন, তাদের সহযোগী দিলারা বেগম ও মমতাজ বেগম। তারা গোপনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন।
সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। সেই সঙ্গে ওই নারীকে তারা আটকে রাখেন।
ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে র্যাবের একটি দল। এ সময় ওই বাড়ি থেকে আলমগীর ও তার স্ত্রী হেলেনাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলমগীরের বিরুদ্ধে আগেও নারী শিশু আইনে একটি মামলা আছে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
