নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানি ইউনিয়নের খাচুয়ার ব্রিজ এলাকায় প্রকাশ্যে এক যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় হামলাকারীরা তার কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
আহত যুবকের নাম মোঃ মোস্তফা (২৮), পিতা— মোঃ উজ্জ্বল, সাং— চড়াইখোলা সরকারপাড়া, উপজেলা ও জেলা— নীলফামারী। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা শেষে বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী মোস্তফা জানান, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি গণঅধিকার পরিষদের একটি আলোচনা সভা শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। খাচুয়ার ব্রিজের পূর্ব পাশে পৌঁছালে জিন্স প্যান্ট পরিহিত কয়েকজন যুবক তাকে “ভাই” ডেকে থামতে বলে। তিনি মোটরসাইকেল থামাতেই হঠাৎ তারা আক্রমণ শুরু করে।
মোস্তফার ভাষায়, “তারা চিকন দড়ি দিয়ে আমার গলা পেঁচিয়ে ধরে, ব্লেড দিয়ে পিঠে কেটে দেয়, মুখে গামছা বেঁধে ফেলে। এ সময় একজন আমার মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়, আরেকজন নেয় আমার সঙ্গে থাকা ১৭,২০০ টাকা ও মোবাইল। বাকি চারজন বলছিল, ‘তাকে বাড়ির দিকে নিয়ে চলো।’”
তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেদম মারপিট চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, হামলাকারীরা তার স্যামসাং মোবাইল ফোন (Model: M145F/DS, IMEI-1: 35131728022738, IMEI-2: 358698310223738) এবং হোন্ডা ড্রিম মোটরসাইকেল (ইঞ্জিন নং: JC86E-1147027, চেসিস নং: PSOJC8690PH046972) ছিনিয়ে নেয়।
উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া ভ্যানচালক জানান, “তাকে আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখি। শরীরজুড়ে রক্ত, তখনও কিছুটা জ্ঞান ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
স্থানীয়রা জানান, খাচুয়ার ব্রিজ এলাকায় সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জার অভাব ও ঝোপঝাড়ে ভরা পরিবেশের কারণে প্রায়ই অপরাধীরা আশ্রয় নেয়। তারা দ্রুত ব্রিজ এলাকায় লাইটিং ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানান।
এদিকে গণঅধিকার পরিষদ এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংগঠনের সদর উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আলম বলেন,
“এমন নৃশংস হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এলাকাটিতে ফেনসিডিলের বোতল পাওয়া মানে মাদকচক্র সক্রিয়— সেখানে নিয়মিত অভিযান চালানো দরকার।”
চাপড়া সরমজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এমন হামলার ঘটনা দুঃখজনক। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এনএএন টিভি / ওমর ফারুক
