নানা সমস্যায় জর্জরিত কক্সবাজারে ঈদগাঁও বাজার।প্রতিবছরই সরকার এই বাজার থেকে আয় করছেন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। অথচ সরকারি উদ্যোগে বাজারের দৃশ্যমান কোন উন্নতি হয়নি।
বাজারের সহ-সম্পাদক জানান, বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদ যেহেতু সরকারি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নয়, সেহেতু তারা কারো কাছ থেকে কোন ধরনের ফান্ড পাননি। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফোরকান আহমেদ, কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা সহ অনেকের নিকট তারা দৌড়ঝাঁপ করলেও কোন ফান্ড আনতে পারেননি। তবে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের তৎকালীন সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদের মাধ্যমে মাছ বাজারের জন্য একটি ভবনের ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন। যা এখন প্রায় দৃশ্যমান। তাদের সময়ে বাজারের ড্রেনেজ সিস্টেমের বাস্তবায়নেও তারা ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেন।
বাজারের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত নুর হোসন ও বসির জানান, অনেকদিন যাবত তাদের অফিসে আসেন না কর্মকর্তারা। তবে তারা ডিউটির ফাঁকে রেস্ট নিতে এবং হিসাব-নিকাশ সংরক্ষণ করতে মাঝে মধ্যে অফিসে বসেন।
ব্যবসায়ী নুরুল হুদা জানান, কমিটির মেয়াদ অনেক আগে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। অটোমেটিক্যালি সেটা বিলুপ্ত। তারা পদে পদে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে সক্ষম কমিটি দরকার। যারা ট্রাফিক ও থানা পুলিশের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারবেন। তার মতে বাজারের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের দেখভাল যারা করতে পারবেন তাদেরকে নির্বাচিত করা উচিত।
এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে বাজারটি অভিভাবকহীনতায় ভোগছে। কোথাও কোন নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। যে যার মত ইচ্ছা লুটপাট করছে। আমরা বাজারের বিভিন্ন সেক্টরের প্রকৃত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবল চাকমার নিকট দাখিল করেছিলাম। তবে তিনি তা অনুমোদন করেননি।
তিনি আরো জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের সড়কে হাঁটু পানি জমে। এতে মুসল্লীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বাজারে দীর্ঘদিন শৌচাগার না থাকায় আগত লোকজনকে পথে-ঘাটে পায়খানা প্রস্রাব করতে হয়। এতে বাজারের শ্রীহানি ঘটছে।
এ ব্যবসায়ী বলেন, ড্রেন নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং গাছের উপর ড্রেনের ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশন পদে পদে বাধাগ্রস্ত হবে। তেলি পাড়ার সরকারি ব্রিজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ায় বাজারে হাঁটুপানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। শাপলা চত্বরসহ যত্রতত্র ভাসমান দোকান বসিয়ে ইজারাদার টু-পাইস কামিয়ে নিচ্ছে। বহিরাগত ও দূরদূরান্তের চালকরা গাড়ি নিয়ে যেমন ইচ্ছে যাত্রী পরিবহন করছে। যানবাহন ব্যবস্থাপনা নীতিমালার কোন তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদ সভাপতি জানান, বাজার কমিটি বর্তমানে কার্যকর নয়। ইউএনওর কাছে পদত্যাগ পত্র পেশ করতে গিয়ে জালালাবাদ চেয়ারম্যানের অনুরোধে আর পদত্যাগ করা হয়নি। তিনি বর্তমানে বাজার কমিটির কার্যক্রম চেয়ারম্যান পরিচালনা করছেন বলে জানান।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। ২০২০ এর ১৮ মার্চ এ পরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে, ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনামুখর পরিবেশে ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ব্যবসায়ী মহলের দাবী, বাজার কেন্দ্রীয় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হউক।

One Reply to “নানা সমস্যায় জর্জরিত ঈদগাঁও বাজার, উন্নয়ন বঞ্চিত নির্বাচন দাবী”
Comments are closed.