‘আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা— তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।’— যেন এই পংক্তির জীবন্ত রূপ দেখালো নীলফামারীর জলঢাকা বি.আই.এএম স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞান মেলায় ১০ বছরের কম বয়সীদের সৃজনশীলতার ঝলক
বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা যেন রূপ নেয় শিশু প্রতিভাদের মিলনমেলায়। বয়স মাত্র ৮ থেকে ১০— তবুও তাদের হাতে তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প, মডেল ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা উপস্থিত সবাইকে বিস্মিত করে।
প্রায় মায়ের কোলছাড়া না হওয়া এই শিশুদের উপস্থাপনার ভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস, সাবলীল বক্তব্য এবং দেহভাষা ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষক-অভিভাবকসহ অতিথিরা বলছেন— “এই বয়সে এমন সৃজনশীলতা সত্যিই অভূতপূর্ব।”
ছয় শিশু মিলে জমজমাট বিতর্ক: যুক্তির লড়াইয়ে মুগ্ধ সবাই
বিজ্ঞান মেলার পাশাপাশি প্রাথমিকের ছয় শিক্ষার্থী উপহার দেয় আকর্ষণীয় একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বয়সের তুলনায় তাদের যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা, উচ্চারণ, বক্তব্যের ধারাবাহিকতা এবং আত্মবিশ্বাস দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে—তারা যেন উচ্চশ্রেণির শিক্ষার্থী।
তাদের চোখের দীপ্তি, মুখের আত্মবিশ্বাস এবং কথার সাবলীলতা বলে দেয়—চর্চা, অনুশাসন ও সুযোগ পেলে প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুরাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে।
ঢাকার নামী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম
শুধু প্রতিযোগিতাই নয়—শিশুদের সামগ্রিক উপস্থাপনা ও ব্যক্তিত্ব দেখে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও অতিথিরা মন্তব্য করেন,
“ঢাকার স্বনামধন্য কোনো স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জলঢাকা বি.আই.এএম স্কুলের শিক্ষার্থীদের তফাত খুঁজে পাওয়া কঠিন।”
প্রত্যন্ত জনপদের একটি বিদ্যালয়ে এমন মানসম্পন্ন দক্ষতা—এটি জেলার শিক্ষাঙ্গনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
জেলা পরিষদের প্রতিশ্রুতি: মেধা ও উন্নয়নের পাশে থাকবে প্রশাসন
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ, নীলফামারীর প্রতিনিধিরা জানান—
এমন একটি সম্ভাবনাময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে তারা ইতোমধ্যেই কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।
তারা বলেন, “যা কিছু উন্নয়নমুখী, যা কিছু সুন্দর ও ইতিবাচক সংগ্রামের অংশ—জেলা পরিষদ সবসময় তার সঙ্গে আছে এবং থাকতে চায়।”
আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে এ শিশুরাই
শিক্ষক ও অতিথিরা মনে করেন—
এদের মতো শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের বাংলাদেশ। দেশপ্রেম, শিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চায় এগিয়ে থাকা এই শিশুরাই একদিন নেতৃত্ব দেবে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে।
এনএএন টিভি / ওমর ফারুক
