ব্রি-২৮ আগাম জাতের ধান চাষে কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্লাস্ট আতঙ্ক।
এ প্রসঙ্গে কৃষকরা বলছেন, তাদের অর্ধেকেরও বেশি ব্রি-২৮ জাতের ধান নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, তারা মাঠ জরিপ করছেন ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করতে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়,
জেলায় এ বছর বোরো চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ৫৬ হাজার ৮ শত ৫০ হেক্টর। চাষাবাদ হয়েছে ৬০ হাজার ৫৭ হেক্টর।
যেখানে হাওর এলাকায় ২৭ হাজার ৫ শত ৫৮ হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের আগাম ধানের চাষাবাদ হয়েছে।
জানা গেছে, হাওরাঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলো বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল।
ভালো ফলন হলে মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে জীবনযাপন সুখকর হয়। ফলন খারাপ হলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়লে সারাবছর ধারদেনা করে চলতে হয়।
হাওরপাড়ের মানুষের মূল আতঙ্ক হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস-বন্যা।
এ জন্য অনেক কৃষক তাদের নির্দিষ্ট জমির অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ আগাম জাতের ধান চাষাবাদ করেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে।
কিন্তু এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় ও খরার প্রভাবে ধানের ছড়ায় ধান কম, ধানে শীষ রোগ এবং ছড়ায় অধিকাংশ ধানে চিটা, সার নেই।
ফলে প্রকৃতির দ্বিমুখী সংকটে পর্যাপ্ত ফসল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাওড়পাড়ের কৃষক পরিবারগুলো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামছুদ্দিন আহমেদ বলেন,
যেভাবে কৃষকরা দাবি করছেন তা সঠিক নয়। আমাদের মাঠ থেকে প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী ব্লাস্ট রোগে কিছু ধানের জমি নষ্ট হয়েছে।
কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা শুরু হয়েছে। সরকারের কোনো বরাদ্দ বা প্রণোদনা এলে, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে।
