সৈয়দপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৮ পরিবারের ১১টি ঘরসহ সর্বস্ব পুড়ে ছাই

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ পরিবারের ১১টি ঘর সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া আরও ৫টি পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত হয় আইয়ুব আলীর বসতঘর থেকে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মৃত আব্দুলের ছেলে আইয়ুব আলী ও তার তিন ছেলে সাজু মিয়া, সবুজ ও বুলবুলের ৬টি ঘর, মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে আলী আজম মিন্টুর ৩টি ঘর এবং মৃত আফসার আলীর ছেলে হযরতের ২টি ঘর সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়।
আগুনে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ধান-চাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও কাপড়সহ সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন আলী আজম মিন্টু। তিনি সৈয়দপুর শহরে থাকায় ঘরে কেউ না থাকায় তার ৩টি ঘর থেকে কিছুই বের করা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেছেন, তার প্রায় ৪০ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। সাজু মিয়ার প্রায় ১০ লাখ, আর আইয়ুব আলী ও তার অন্য দুই ছেলের আরও ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া হযরত আলীর ২টি ঘরসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যায়। আগুন নেভানোর সময় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হন তৈয়ব আলী, সোলেমান আলী, মশিউর রহমান, রবিউল ইসলাম ও মোসলেম। তাদেরও প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
আগুন লাগার কারণ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলছেন রান্নার চুলা থেকে, কেউ শর্ট সার্কিট থেকে, আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন—দুই পরিবারের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও অল্প সময়েই ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩৫ জন মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও নীলফামারী–৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেন।
এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান লানছু হাসান চৌধুরীর মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন থেকে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় পোশাক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ওমর ফারুক/এনএএন টিভি