পাহাড় থেকে অপহৃত পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করল পুলিশ

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অপহৃত চারজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপরজন মোহাম্মদ নুরকে উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।

২৪ মার্চ রবিবার দিবাগত রাতে টেকনাফের লেদা নুরালি পাড়ার পশ্চিমে গহীন পাহাড় থেকে চারজন অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। তবে আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ নুর (১৮) কে অপহরণকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

অপহৃতরা হলেন- টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকার ফকির মোহাম্মদের ছেলে মো. রফিক (২২), শাহাজানের ছেলে মো. জিহান (১৩), ছৈয়দ উল্লাহর ছেলে শাওন (১৫) ও নুরুল আমিনের ছেলে আব্দুর রহমান (১৫)।

ভিকটিম মো. রফিক বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমরা পাঁচজন টমেটো খেত পাহারা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী আমাদেরকে অপহরণ করে গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায়। চোখ বন্ধ করে হেঁটে হেঁটে গহীন পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে একটি টিনশেড ঘরে আটকে রাখে। এক দিন পর সেখান থেকে আবারও হেঁটে হেঁটে গহীন পাহাড়ে একটি প্লাস্টিকের পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে রাখে। মুক্তিপণের জন্য সকলকে মারধর করা হয়। পাহাড়ে প্রশাসন অভিযান চালালে ডাকাত দলের সদস্যরা আমাদের হুমকি দিতে থাকে। যত দিন পাহাড়ে ছিলাম তত দিন চোখ বন্ধ ছিল, যাতে অপহরণকারীদের চিহ্নিত করতে না পারি। এমনকি খাবার দেওয়ার সময়ও চোখ বন্ধ রাখা হয়। রবিবার দিবাগত রাতে লেদা নুরালি পাড়া পাহাড় থেকে আমাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তিনি বলেন, জিহান, শাওনসহ আমার পরিবারের কাছ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযান দেখে আমাদের চারজনকে ছেড়ে দিলেও মোহাম্মদ নুরকে নিয়ে গহীন পাহাড়ে পালিয়ে যায় ডাকাত দলের সদস্যরা। মোহাম্মদ নুরের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। ডাকাত দলের সদস্যরা বিশেষ সূত্র জানতে পারে মোহাম্মদ নুরের দুই ভাই প্রবাসে থাকে। সে কারণে মোহাম্মদ নুরকে মুক্তিপণ ছাড়া ছেড়ে দেয়নি। তাদের কথাবার্তায় মনে হলো সবাই রোহিঙ্গা। তাদের নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালী। প্রশাসন পাহাড়ে গেলে তাদেরকে খবর দেওয়া হয়।

মো. জিহানের পিতা শাহজাহান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমার ছেলেসহ পাঁচজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ডাকাত দলের সদস্যরা। পরবর্তীতে ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবি করেছিল। লেদা নুরালি পাড়া গহীন পাহাড় থেকে পুলিশ গিয়ে আমার ছেলেসহ চারজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার খানে আলম জানান, রাত দেড়টার সময় চারজন অপহৃত ভিকটিমকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ভিকটিমদের শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে পাঁচজন কিশোর ও যুবক প্রতিদিনের মতো পাহাড়ে টমেটো খেত পাহারা দিচ্ছিল হাতির তাণ্ডব থেকে রক্ষা পেতে। হঠাৎ পাহাড় থেকে ২৫-৩০ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে তাদের উদ্ধারে পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়।

তিনি বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা প্রশাসনের অভিযান দেখে স্থান পরিবর্তন করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারি রবিবার ভোররাতে লেদা নুরালি পাড়া গহীন পাহাড়ে অপহরণকারীরা অবস্থান করছে। এমন সংবাদে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাত দলের সদস্যরা চারজন অপহৃত ভিকটিমকে ফেলে মোহাম্মদ নুরকে নিয়ে গহীন পাহাড়ে পালিয়ে যায়। অভিযান চলমান রয়েছে।

এনএএন টিভি