সন্দেহজনক লেনদেন হলেই জব্দ করা হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদরা দেশের চলমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যাংক থেকে যাতে অর্থ সরানো ও পাচার করতে না পারে সেজন্য সন্দেহজনক লেনদেন হলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিচিত বা স্বজনপ্রীতি করে ছাড় দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল সকালে ও বিকালে দুই দফায় দেশের সব রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের ‘চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স’ অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে এ সতর্ক বার্তা দেয়া হয়।

বৈঠকে বলা হয়, যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন হলে সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর) ও সন্দেহজনক কার্যক্রম (এসএআর) প্রতিবেদন দিতে হবে। এসটিআর বা এসএআর অনুযায়ী প্রয়োজন মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা জব্দ করা হবে। পরিচিত বা স্বজনপ্রীতি করে ছাড় দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণত সার্কুলারের মাধ্যমে সব ব্যাংকে এ ধরনের নির্দেশনা দিয়ে থাকে বিএফআইইউ। তবে বিএফআইইউ-প্রধান না থাকায় সার্কুলার জারি করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে বুধবার সকালে স্বেচ্ছাচারিতা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তোপের মুখে পদত্যাগ করেন বিএফআইইউর প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নর এবং একজন উপদেষ্টা পদত্যাগ করেন। এছাড়া আন্দোলনরতদের এক বিজ্ঞপ্তিতে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার রাতে দেশ ছেড়েছেন বলে দাবি করা হয়।

বিএফআইইউর আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, অনেক দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ তাদের অ্যাকাউন্টে থাকা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টায় রয়েছেন। আমরা সাধারণত কর্তৃপক্ষ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে পারি না। তবে এটি যথাসম্ভব ঠেকাতেই ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হবে।’

এনএএন টিভি