পানিতে গুঁড়া হলুদ মেশানোর ট্রেন্ডিং ভিডিওর ব্যাপারটা আসলে কী-একে বলা হচ্ছে ‘টিংকারবেল টারমারিক ট্রেন্ড’।
অন্ধকার ঘরে পানিভর্তি স্বচ্ছ গ্লাসে লোকজন গুঁড়া হলুদ ঢেলে দিচ্ছে, গ্লাসের নিচে জ্বলছে মুঠোফোনের ফ্ল্যাশলাইট। ঢেলে দেওয়া গুঁড়া হলুদ ধীরে ধীরে পানিতে মিশছে আর ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় ছড়িয়ে পড়ছে চোখজুড়ানো হলুদ আভা। অন্ধকার ঘরে যেন হচ্ছে সূর্যোদয়।
সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরণের ট্রেন্ড চোখে পড়ে। কখনও ডালগোনা কফি আবার কখনও ঘিবলি আর্ট। সম্প্রতি ভাইরাল হচ্ছে কাচের গ্লাসে হলুদ মেশানোর ভিডিও। এক গ্রাস জলে হলুদ মিশিয়ে তার ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হচ্ছে তা।
মূল ভিডিও:
১৪ জুন মালয়েশীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুষ্পা গোমেন টিকটকে একটা ভিডিও ছাড়েন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রায় অন্ধকার ঘরে পুষ্পা গোমেন গ্লাসের পানিতে গুঁড়া হলুদ ঢালছেন। গ্লাসের নিচে জ্বলছে ফ্ল্যাশলাইট। পুষ্পার আশপাশে আরও কয়েকজন মালয়েশীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। পানিতে গুঁড়া হলুদ পড়তেই ছড়িয়ে পড়ছে হলুদ আভা, সঙ্গে সঙ্গে বাজতে লাগল ‘ম্যায় আগার কাহু’র সুর। আর তাতে বিস্মিত পুষ্পার সঙ্গীরা। ব্যস, সেই থেকে ভিডিওটি ভাইরাল। টিকটকে পুষ্পা গোমেনের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে ভিডিওটির ভিউ সাড়ে তিন কোটি (২২ জুন রাত ১১টা পর্যন্ত)!
ভাইরাল হওয়ার কারণ?
দেখতে মনোমুগ্ধকর
সহজে বানানো যায়
আবেগী গান যুক্ত হওয়ায় নাটকীয়তা বাড়ে
সবাই নিজের মতো ভিন্নভাবে করে মজা পাচ্ছে
নির্দোষ, হাস্যকর কিংবা সৃজনশীল কন্টেন্ট তৈরি করা যায়
অন্ধকার ঘরে ‘ম্যায় আগার কাহু’র সুরটাও যোগ করেছে আলাদা মাত্রা। সব মিলিয়ে ট্রেন্ডটা নির্দোষ আনন্দময়। ফলে ছেলে–বুড়ো সবাইকে আকৃষ্ট করছে।
টিকটকে তো বটেই, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামেও হাজারো মানুষ এ ধরনের ভিডিও আপলোড করছেন। ইউটিউবে ভ্লগাররা বানাচ্ছেন ট্রেন্ডটির প্রতিক্রিয়া, টিউটরিয়ালসহ নানান ধরনের ভিডিও।
মালয়েশিয়া থেকে শুরু, ফলে সে দেশে তো বটেই, ভিডিও ট্রেন্ডটি ভাইরাল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ ইন্দোনেশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও।
ফেসবুকে কোনো কোনো ভিডিও এরই মধ্যে পেয়েছে লাখ লাখ ভিউ। এই ট্রেন্ডের হাস্যকর কিছু সংস্করণও দেখা গেছে এরই মধ্যে।
বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া:
টিকটকার, ইউটিউবাররা ব্যাপকভাবে অনুসরণ করছেন
‘আর্টফুল শতাব্দী’-র মতো টিকটকাররা টিউটরিয়াল দিচ্ছেন
কিছু ট্রল ও হাস্যকর ভিডিও ছড়িয়েছে
এটা নিছক ভিজ্যুয়াল প্লেজার ও বিনোদনমূলক ট্রেন্ড কোনো বিশেষ বার্তা বা গভীর অর্থ নেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কতটা বিস্তৃত, তার সুন্দর উদাহরণ এটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আপাতত হলুদময়। কেউ কেউ বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে বাজারে যে গুঁড়া হলুদের দাম বেড়ে যাবে!

One Reply to “হঠাৎ সবাই পানিতে গুঁড়া হলুদ মেশানোর ভিডিওর বানাচ্ছে কেন?”
Comments are closed.