হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে যাচ্ছে তেল ট্যাংকার, বৈশ্বিক জ্বালানি শঙ্কা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলছে তেল ট্যাংকার, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে চলছে তেল ও কেমিক্যাল ট্যাংকারগুলো। সামুদ্রিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিকের’ তথ্য অনুযায়ী, তিনটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি গিয়েও পথ বদলে অন্যদিকে চলে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, দুটি খালি তেলবাহী সুপারট্যাংকার হরমুজ থেকে ফিরে গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাযুক্ত ‘মেরি সি’ এবং পানামার পতাকাবাহী ‘রেড রুবি’ নামে দুটি ট্যাংকার সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের ফুজাইরাহ বন্দরের কাছে নোঙর ফেলেছে। এর আগে তারা হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা করেছিল।

যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী ‘কোহজান মারু’ ওমান উপসাগরে ওমানের জলসীমার কাছে পৌঁছে নিজের রুট পরিবর্তন করে বলে জানা গেছে।

সামুদ্রিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালীর কাছে গিয়ে রুট পরিবর্তন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, দুটি খালি সুপারট্যাংকার হরমুজ থেকে ঘুরে গেছে—এদের মধ্যে রয়েছে মার্শাল আইল্যান্ডসের ‘মেরি সি’ এবং পানামার ‘রেড রুবি’। তারা বর্তমানে ফুজাইরাহ বন্দরের কাছে নোঙর করেছে।

একইভাবে যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী ‘কোহজান মারু’ ওমান উপসাগরে পৌঁছে নিজের গন্তব্য পরিবর্তন করেছে। এ ছাড়া ব্লুমবার্গ জানায়, ‘কোসউইজডম লেক’ ও ‘সাউথ লয়্যালটি’ নামের দুটি বিশাল সুপারট্যাংকার হরমুজ প্রণালীর মাঝপথ থেকে আচমকা ফিরে গেছে। প্রতিটি জাহাজে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে।

আল জাজিরা বলছে, এই দিক পরিবর্তনের প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হরমুজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচলে বড় রকমের পরিবর্তন আসতে পারে। জাহাজ মালিক ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নতুন বিকল্প রুট খোঁজার দিকে মনোযোগী হচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার পরিণতিতে হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর তেহরান পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী হয়ে পরিবাহিত হয়, যা একে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত রুটে পরিণত করেছে। ইরান পূর্বেও বহুবার হুমকি দিয়েছে, যদি সামরিক উত্তেজনা বাড়ে, তারা প্রণালীটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক তেল বাজারে বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ফলে পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপগুলোর ওপর নির্ভর করবে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে।

এন এ এন টিভি