যেকোনো সময় ইরানের উপর হামলা করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক বোমাবর্ষণের পর দেশটিতে আবারও যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার ( ২ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই স্পষ্ট ঘোষণা দেন।

ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, গত রাতে আমরা তাদের রাডার ব্যবস্থার চেয়েও অনেক বেশি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। সেটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী একটি আক্রমণ ছিল। আমরা যেকোনো সময় এবং যখনই চাইব, ইরানে আবারও অনুরূপ বড় ধরনের হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।

ইরানের ওপর চলমান সংঘাতের মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের সার্বভৌমত্ব দাবি করে জলসীমাটির নাম বদলে নিজের নামে ট্রাম্প প্রণালি রাখার বিতর্কিত প্রস্তাব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, এখন যেহেতু এটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আমাদের কি হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্প প্রণালি রাখা উচিত নয়।

আমেরিকার মতোই এটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি উত্তপ্ত হবে! পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডল থেকেও উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি পরিবর্তিত মানচিত্র প্রকাশ করা হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক এই সমুদ্রপথকে ট্রাম্প প্রণালি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর আগে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর মেক্সিকো উপসাগরকে গালফ অব আমেরিকা এবং কানাডা সংলগ্ন লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নামকরণের নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। এবার আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমাকেও ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া কৌশলগত এই সমুদ্রপথে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত ও আকাশছোঁয়া তেলের দামের কারণে নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দেশেই রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।