ওসমানী হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান শাবিপ্রবি উপাচার্য

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

শুক্রবার (১৬ জুন) রাতে হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসাপাতালের ২৬, ২৭ এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে যান শাবি উপাচার্য।

শাবিপ্রবি উপাচার্য হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজ খবর নেন।

এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শাবি উপাচার্যের সঙ্গে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আমিনা পারভীন,

ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ তালুকদার, প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান,

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. কবীর হোসেনসহ হল প্রভোস্ট ও সহকারী প্রক্টররা।

শুক্রবার (১৬ জুন) ক্যাম্পাসে ঢোকা নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বহিরাগতদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বহিরাগকরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

বহিরাগতদের হামলায় আহত হন বেশকিছু শিক্ষার্থী। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে প্রায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়।

গুরুতর আহত ৯ শিক্ষার্থীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

এছাড়াও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে না দেয়ায় সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় তাদের।

একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীও তাদের ভেতরে যেতে বাধা দেন।

তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বহিরাগতদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

এতে উভয়পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এ সময় অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্রও দেখা যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় যুবলীগ নেতা দুলালের নেতৃত্বে শিক্ষার্থী,

নিরাপত্তা কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বহিরাগত ও স্থানীয়রা।

এ সময় শিক্ষার্থীরাও পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় গেটের ভেতরে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা যুবলীগ নেতা দুলালের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, দুলালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া গেটে থাকা বিভিন্ন দোকানে চাঁদাবাজি ও মাদকের ব্যবসা পরিচালনারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

এসবের প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার ঝামেলাও হয়েছে।

এনএএন টিভি