রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উজানচর ইউনিয়নের শেষ সীমানা কালীতলা এলাকায় পুঁতে রাখা মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পরকীয়া প্রেমিক উজ্জ্বল (৩৫) ও নিহতের স্বামী আমজাদ শেখকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
একইদিন বিকাল ৪টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বকেরটিলা গ্রামের সীমান্তবর্তী ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদীয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আনসার মাতব্বরের ডাংগির এখলাস মাতুব্বরের কলাবাগান থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের চর কর্নেশনা এলাকার লুৎফর সওদাগর গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) ও তার শিশুকন্যা সামিয়া আক্তার (৪)।
জাহানারা মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেঁওতা গ্রামের লালন মোল্লার মেয়ে। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর জাহানারাকে বিয়ে করেন আমজাদ। জাহানারা নিখোঁজের পর আমজাদের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন তার বাবা।
পরকীয়া প্রেমিক উজ্জ্বল গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বকারটিলা গ্রামের শাহজাহানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী কুলসুম বেগম বলেন, আমি পুকুর পাড়ে ছাগল চড়াতে গিয়ে দেখি একটি কুকুর লাশের পা টেনে তোলার চেষ্টা করছে। এগিয়ে গিয়ে বিষয়টি বোঝার পর গ্রামবাসীকে ডেকে আনি। পরে ফরিদপুর ও গোয়ালন্দ থানা পুলিশকে খবর দিলে তারাও ঘটনাস্থলে আসে।
পুলিশ ও আমজাদের স্বজনরা জানান, জাহানারা তার স্বামী আমজাদ শেখের সঙ্গে ঢাকার আমিন বাজার এলাকায় একটি ইট ভাটায় রান্নার কাজ করতেন। সেখানে শ্রমিক উজ্জ্বলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার সালিশও হয়। আমজাদ বিষয়টি নিয়ে উজ্জ্বলকে মারধরও করেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে আলাপকালে আমজাদ শেখ যুগান্তরকে জানান, এক ফুফাতো ভাইয়ের দোয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৪ মে তারা গ্রামের বাড়িতে আসেন। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে তার স্ত্রী চর দৌলতদিয়া হামেদ মৃধার হাটে ওষুধ কেনার কথা বলে মেয়েকে নিয়ে থেকে যায় এবং আমাদের বাড়ির দিকে আগাতে বলে।
তিনি বলেন, আমি বাড়িতে পৌঁছে তাকে ফোন দিলেও বন্ধ পাই। ওইদিন বিকাল থেকে তারা নিখোঁজ। দুইদিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজার পর না পেয়ে ৬ মে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এরপর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকালে হঠাৎ করে ফেসবুকে দেখতে পাই এক নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনা। এরপর ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আমার স্ত্রী-কন্যাকে শনাক্ত করি।
আমজাদ অভিযোগ করে বলেন, উজ্জ্বল আমিন বাজারে বিচারের ঘটনায় ক্ষিপ্ত ছিলেন। তিনি কৌশলে আমার স্ত্রী-সন্তানকে বাড়ি থেকে এখানে এনে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন।
আমজাদ শেখের বাবা রব শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলের বউ ও আদরের নাতনিকে যে বা যারা হত্যা করেছে, তাদের গ্রেফতার করে কঠিন শাস্তি দাবি করছি।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জামাল মোল্লা জানান, আমজাদ ইটের ভাটায় কাজ করতেন। মাঝে মাঝে জাহানারাও সেখানে যেতেন। ইটভাটায় উজ্জ্বল নামের এক ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে ঝামেলাও হয়েছিল।
তিনি জানান, লাশ উদ্ধারের স্থানের কাছেই সেই যুবকের বাড়ি। এ ঘটনার সঙ্গে উজ্জ্বলের সম্পৃক্ততা আছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল্লাহ জানান, তারা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত নারীর স্বামী আমজাদ শেখ এবং উজ্জ্বল নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরকীয়া প্রেমের বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
