দলছুট হনুমানের জন্য আতঙ্কে কালাইয়ের গ্রামবাসী

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট পাঁচপাইকা গ্রামে গত এক সপ্তাহ ধরে ছুটে বেড়াচ্ছে বনে থাকা একটি দলছুট হনুমান। কখনো চিকন গাছের মগডালে আবার কখনো মাটির বাড়ির টিনের ছাউনির ওপরে ছোটাছুটি করে বেড়াচ্ছে হনুমানটি। তাকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের উৎসুক মানুষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) পৌরসভার সড়াইল মহল্লায় এই হনুমানকে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

পরে আবার এই গ্রামে চলে আসে। ক্ষুধার তাড়নায় হনুমানটি এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছে।
তারা আরো জানান, গ্রামের মানুষ খাবার ছুড়ে দিলেও হনুমানটি ভয়ে খাচ্ছে না। কিংবা খাবার পছন্দসই হচ্ছে না।

অনাহারে দুর্বল হয়ে গেছে প্রাণীটি।
পাঁচপাইকা গ্রামের বাসিন্দা মিঠু ফকির বলেন, ‘খাদ্যসংকটের পাশাপাশি হনুমানটির বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের অত্যাচার। যেখানেই যাচ্ছে, সেখানেই জড়ো হচ্ছে শত শত উৎসুক জনতা। কেউ তার দিকে ছুড়ছে ঢিল, আবার কিশোরদের মধ্যে কেউ করছে লাঠিপেটা।

এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা ও পৌর এলাকায় বিচরণ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে হনুমানটিকে উদ্ধারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
পাশের নান্দাইল দীঘি গ্রামের নিয়ামুল হক বলেন, ‘এই হনুমানটি আমাদের গ্রামেও এসেছিল। বন বিভাগে যোগাযোগ করলে পর্যাপ্ত লোকবল নেই বলে তারা হনুমানটিকে উদ্ধার করতে পারবে না বলে জানায়। এ ছাড়া তারা স্থানীয় লোকদের হনুমানটিকে খাবার দিতে নিষেধ করে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে হনুমানটিকে উপজেলার পুনট পাঁচপাইকা গ্রামের পশ্চিমপাড়া আমজাদ হোসেনের মাটির বাড়ির টিনের ওপরে বসে থাকতে দেখা যায়।

প্রথমে বাড়ির সবাই দৌড়ে পালিয়ে গেলেও পরে গ্রামের সবাই মিলে সেখানে এসে হনুমানটিকে খাবার দেয়। কিন্তু সে খাবার হনুমান খায় না। অনেক শিশু-কিশোর ঢিল ছুড়ে মারছে, তবুওহনুমান সেখান থেকে সরে যাচ্ছেনা। না খাওয়ার জন্য হনুমানটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বাড়ির মালিক আমজাদ হোসেন জানান, হনুমানটি দলছুট হয়ে নিকটবর্তী ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাকে আসতে পারে। হনুমানটিকে দ্রুত উদ্ধার করে নিয়ে না গেলে, মানুষের অত্যাচার ও অনাহারে এটি মারা যাবে।

বগুড়া অঞ্চলের সামাজিক বন কমকর্তা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘এটি উদ্ধার কোনো সমাধান নয়। উদ্ধার করে কী করা হবে? ধরলে চিড়িয়াখানায় দিতে হবে, তাতে তার জীবন বন্দি হয়ে যাবে। বরং তাকে উত্ত্যক্ত করা উচিত নয়, নিরাপদভাবে রেখে দিলে সে কারোর ক্ষতি করবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেউ যেন হনুমানটিকে খাবার না দেয়, খাবার দেওয়া হলে সে আর যাবে না। প্রাকৃতিকভাবেই এটি নিজ গতিতে আগের স্থানে ফিরে যাবে। এতে ভয়ের কিছুই নেই।’

 

এনএএন টিভি