নারায়ণগঞ্জে মূল শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে ইজিবাইক চালকরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তারা এই বিক্ষোভ করেন।
এদিন সকালে ইজিবাইক চালকরা শহরের চাষাঢ়া এলাকায় জড়ো হয়ে দুপুরের দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর জেলা প্রশাসন থেকে তাদের বলা হয় নিষেধাজ্ঞা সিটি করপোরেশন জারি করেছে। এখানে জেলা প্রশাসনের কিছু করার নেই। তারপর ইজিবাইক চালকরা সেখান থেকে সিটি কর্পোরেশনের সামনে অবস্থান নেন। বিকেল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) সূত্রে জানা যায়, সড়কে দাপিয়ে বেড়ানো অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃক লাইসেন্স নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের পর যেসব নিবন্ধনহীন অটোরিকশা সড়কে চলাচল করছে, সেইসব অটোরিকশার বিরুদ্ধে সোমবার থেকে অভিযান পরিচালনা করে আসছে সিটি করপোরেশন।
সিটি করপোরেশনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সকাল থেকেই ব্যাটারি চালিত রিকশাচালকরা চলাচল বন্ধ রাখে। এসময় বিকল্প উপায়ে কেউ কর্মস্থল বা গন্তব্যে যেতে চাইলে তাদেরকেও আটকে দেওয়া হয়। পরে বিকালের দিকে ইজিবাইক চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ইজিবাইক চালকদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর পুলিশ কোনো ইজিবাইক নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষারা ও কালিরবাজার প্রবেশে বাধা দেয়নি। তাছাড়া বিভিন্ন ভুঁইফোড় গণমাধ্যমের নামে যে চাঁদাবাজি হতো, সেটাও বন্ধ রয়েছে। এতে করে নির্বিঘ্নে তারা চলাচল করতে পারতো। কিন্তু সম্প্রতি জেলা পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইজিবাইক নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না। আদেশ অমান্য করে প্রবেশ করলে ইজিবাইক আটক করা হবে এবং জরিমানা করা হবে ৫ হাজার টাকা। ইজিবাইক নগরীর খানপুর পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে বলে চালকদের জানানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমিন সাগর বলেন, আমরা নগরীর যানজট নিরসনে তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। তাদের চলাচল বন্ধ করছি না। নগরীর একটি নির্দিষ্ট এলাকা পর্যন্ত তাদের সীমাবদ্ধতা দেওয়া হচ্ছে। চাষারায় প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের আটক করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, নগরীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আমরা সকল অবৈধ ইজিবাইকগুলোকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করছি। পূর্বে পায়ে চালিত রিকশাগুলো চলাচলে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন ছিল এবং লাইসেন্স দেওয়া হতো। সেই লাইসেন্সগুলোকে কেউ চাইলে ব্যাটারিচালিত দ্বি-আসন বিশিষ্ট বাহনগুলোর জন্য কনভার্ট করে নিতে পারবে। এর বাইরে অন্যান্য সকল ইজিবাইক অবৈধ হিসেবে পরিগণিত হবে। আর আন্দোলনটা অবৈধ ইজিবাইক চালকরাই করছে।
