খাগড়াছড়ির ভাইবোন ছড়ায় ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগকে ঘিরে পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। এর প্রতিবাদে সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন জেলা শাখার ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন।
এ সময় ধর্ষণ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেন বক্তারা। তারা অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষণকারী কোন দল, জাত বা গোষ্ঠীর হতে পারে না।অথচ একটি বিশেষ গোষ্ঠীর পরিকল্পিত ইন্ধনে পাহাড়ে সব ঘটনার অভিযোগ, দায় ও দোষ চাপিয়ে দেয় বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী এবং সেনা বাহিনীর উপর। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন মিথ্যাচার ও দোষারোপ এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি দাতাদের বিরুদ্ধে সচেতন ও সজাগ থাকার আহবান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে গত ৪ জুলাই জেলার মানিকছড়ির বাটনাতলী থেকে সোহেল নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অপহরণের ১২ দিন পর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানিয়েছেন সংগটনটির নেতৃবৃন্দ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব আব্দুল কাইয়ুম, সহ-সভাপতি জনাব অশোক মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদ উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক জনাব জহির আহমেদ।
গত ২৭ জুন রথযাত্রা মেলায় অংশ নেওয়ার পর রাতে ভাইবোনছড়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয় ঐ ত্রিপুরা কিশোরী।সেখানেই গভীর রাতে ছয় যুবক ঘরে ঢুকে ভুক্তভোগীর আত্মীয়দের বেঁধে রেখে ঐ কিশোরীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে।
গত বুধবার রাতে সদর উপজেলার ভাইবোনছড়ায় ত্রিপুরা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে খাগড়াছড়ি সদর থানায় ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন ভিকটিমের বাবা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে রাতেই সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। বাকী দুই অভিযুক্ত আসামি মো. সোহেল ইসলাম (২৩) ও মো. মুনির ইসলাম (২৯) পলাতক রয়েছেন। মামলার পর বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে বাঙ্গালি ও সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে সোস্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্নভাবে সরব হয়ে পাহাড়ি বিভিন্ন সংগঠন।
সট: মো. মেশারফ হোসেন, সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন জেলা কমিটি।
এনএএন টিভি / বিপ্লব তালুকদার
