গতকাল থেকে ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসে পড়েছে রাস্তায়।
সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে এক বিশেষ সভায়
আগামী তিনদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এতে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর বেনু কুমার দে’সহ চবির বিভিন্ন পর্ষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় চবি অফিসসমূহ যথারীতি খোলা থাকবে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাটাপাহাড় রাস্তায় মাটি ও গাছ ভেঙে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের পাশের পাহাড় ধসে পড়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলপকুর পাড়ে পাহাড় ধসে অর্ধেক রাস্তা বন্ধ আছে।
এছাড়াও তিন নম্বর গোডাউনের পেছনে, স্বাধীনতা ভাস্কর্যের সামনেসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।
বন্ধ হয়ে পড়ে কাটাপাহাড় রাস্তা এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন রাস্তা। পরে প্রশাসন যান চলাচলের ব্যবস্থা করে।
অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহী কলোনিতে একটি বসতঘর ভেঙে একজন আহত হয়েছেন।
রেললাইনে জলাবদ্ধতার কারণে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র সাধারণ পরিবহন শাটল।
বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যেতেও দেখা গেছে এবং গাছ উপড়ে পড়েছে।
জলাবদ্ধতার জন্য সোমবার সকালে চবির একটি শাটল ট্রেন ফতেয়াবাদ স্টেশনে আটকা পড়ে।
অন্যদিকে আরেকটি ট্রেন নগরীর ষোলশহরে ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়গামী কোনো ট্রেনই ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছাতে পারেনি।
চবির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন,
শাহী কলোনির একটি বাসার ওপর পাহাড় ধসে বড় গাছ পড়ে বাড়িটি পুরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল্লাহর রহমতে মানুষগুলোর কিছু হয়নি।
আমরা তাদের সেখান থেকে সরে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আশ্রয় নিতে বলেছি।
ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসে পড়েছে; গাছ উপড়ে পড়েছে, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমানে ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশের জন্য একটি রাস্তা খোলা আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার বলেন, যেখানে সেখানে গাছ পড়েছে, ব্লক আছে, সেগুলো সরানোর ব্যবস্থা চলছে।
পাহাড় ধসে একজন মাথায় আঘাত পেয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামী তিনদিন একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে।

Comments are closed.