টাঙ্গাইলে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

টাঙ্গাইলে ঘাটাইলে হাত-পা বাঁধা, মুখ ও গলায় চাদর পেঁচানো সুলতান হোসেন সরকার (৪০) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার ভোরে উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের গালা গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়- সুলতান সরকার উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের গালা গ্রামের মুছা সরকারের ছেলে।

তিন বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় সুলতান সরকারের।

তার কোনো সন্তান নেই। তিনি একাই বাড়িতে থাকতেন। গত তিন দিন যাবৎ গ্রামের লোকজন তাকে লোকালয়ে দেখেনি।

তার আত্মীয়-স্বজনরাও তার কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি।

এরই মধ্যে গ্রামের জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সুলতানের ভাগিনা আবু সামা (পুলিশের এসআই হিসেবে জামালপুরে কর্মরত) জানতে পারেন যে

কয়েক দিন যাবৎ তার মামা সুলতানকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। ঘরে বাতি জ্বললেও মানুষের কোনো সাড়াশব্দ নেই।

আবু সামা বিষয়টি ঘাটাইল থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গালা গ্রামের সুলতানের বাড়িতে যায়।

পুলিশ সেখানে গিয়ে সুলতানের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো অবস্থায় দেখতে পায়।

পুলিশ দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে ঘরের মেঝেতে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে।
লাশের হাত-পা বাঁধা, মুখ ও গলা বিছানার চাদর দিয়ে পেঁচানো।

মাথায় রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। লাশে পচন ধরেছে। পরে পুলিশ আজ শুক্রবার ভোরে সেখান থেকে লাশ থানায় নিয়ে যায়।

এ সময় পুলিশ সুলতানের ভাই সিরাজ উদ্দিন সরকার ও তার ছেলে ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এলাকাবাসীর ভাষ্য- সুলতানেরা ছয় ভাই। ভাইদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে গেছে বছর তিনেক আগে।

লাশ দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তবে কী কারণে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষেয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই তাদের।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের ভাই সিরাজ সরকার ও ভাতিজা ফয়সালকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এন এ এন টিভি