ট্রাফিক পুলিশের যত ব্যর্থতা

ডেক্স রিপোর্টঃ মোটরযান আইন অনুযায়ী, রাস্তায় গাড়ি আইন মেনে চলছে কি না তা দেখার দায়িত্ব পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের। আইনে ট্রাফিক পুলিশকে লাইসেন্সসহ কাগজপত্র যাচাই এবং সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া এবং জরিমানা করার মতো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে তারা। তবে সড়কে নৈরাজ্য বন্ধে ট্রাফিক পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। উল্টো পুলিশের এই বিভাগের বিরুদ্ধে হয়রানি, চাঁদাবাজি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। গত ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় লাইসেন্সহীন চালকের বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর ছাত্র আন্দোলন ট্রাফিক পুলিশের ব্যর্থতার কয়েকটি দিক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশৃঙ্খল সড়কের জন্য দায়ী পুলিশের ১০ ব্যর্থতা। নিরাপদ সড়কের জন্য ঘুষ ও হয়রানি বন্ধ, আলাদা লেন বাস্তবায়ন, প্রভাবশালীদের আইন মান্য করতে বাধ্য করা, চালকের যোগ্যতা যাচাই, গাড়ির ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, স্বয়ংক্রিয় বাতি ব্যবহার, অটোরিকশার নিয়ম বাস্তবায়ন, উল্টো পথে গাড়ি চলাচল প্রতিরোধ এবং বিশেষ নির্দেশনা বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যক ছিল। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারেনি ট্রাফিক পুলিশ। উল্টো পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কিছু কর্মকাণ্ড সমস্যাকে আরো সঙ্গিন করে তুলছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। রাস্তায় গাড়ি আটক করে হয়রানি, টাকা আদায় (চাঁদাবাজি), টাকা না দিলে ভুল বা মিথ্যা অভিযোগে মামলা দেওয়াসহ ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ নগরবাসীর। ডিএমপির সূত্র জানায়, ট্রাফিক বিভাগ প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার মামলা করছে। ট্রাফিক পুলিশের বিভাগ ও জোন থেকে প্রতি অফিসারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মামলা করার টার্গেট ঠিক করে দেওয়া হয়! পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার এক সার্জেন্ট বলেন, ‘টার্গেটটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কী কাজ করছি এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কতটা মামলা করছি এটা দিয়েই পারফরম্যান্স আর এসিআর হয়। তাই সবাই থাকি গাড়ি আটক করে কিভাবে মামলা করা যাবে সে চিন্তায়! চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ট্রাফিক সিগন্যালে দায়িত্বরত সদস্যদের মধ্যে সিনিয়র অফিসার ছাড়া সার্জেন্ট ও কনস্টেবলরা প্রথমে খুব কড়া আচরণ দেখায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কিছু টাকা দিলে তারা মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াও গাড়ি চালানো যায়। একটি প্রাইভেট কারকে ছয়-সাতটি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের তল্লাশি আটকায়। কোনো ধরনের কারণ ছাড়াই গাড়ি থামিয়ে অবান্তর প্রশ্ন করা হয়। আবার ট্রাফিক পুলিশের দাবি করা টাকা দিলে কোনো কাগজপত্র না থাকলেও অনেক গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। রবরব ও বিকাশ পরিবহনের দুই চালক বলে, ফিটনেসবিহীন গাড়িই পুলিশের বাণিজ্যের খাত। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিজস্ব সিএনজি অটোরিকশা চালানো, লেগুনার লাইন চালানো এবং বাসস্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায়েরও অভিযোগ আছে। রাতে রাজধানীর প্রবেশ পথ উত্তরা, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, পোস্তাগোলা, কেরানীগঞ্জ এলাকায় ট্রাক থামিয়ে টাকা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। জানা যায়, দেশে ট্রাফিক পুলিশ ব্যবস্থার প্রবর্তন স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে। সেই সময় সারা দেশে মাত্র ১০৯ জন ট্রাফিক পুলিশ ছিল। বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। রাজধানীতে চার হাজার ট্রাফিক সদস্য আছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কম সদস্য, ঝুঁকি ভাতা, পদায়ন, দায়িত্বের বেশি সময়সহ কিছু সংকটে আছে ট্রাফিক পুলিশ। আর তাই এতে ভুক্তোভুগি হতে হচ্ছে সাধারন জনগনকে