বগুড়ার প্রধান ডাকঘরে হানা দিয়ে অফিস সহায়ককে হত্যার পর ডাকাতির চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।
তবে তারা ভল্টের কিছু অংশ কাটলেও টাকা কিংবা মূল্যবান কিছু নিতে পারেনি।
শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় অবস্থিত জেলার প্রধান ডাকঘরে
গত রোববার (২৩ এপ্রিল) রাতের কোনো এক সময় খুন এবং ডাকাতি চেষ্টার এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত প্রশান্ত কুমার আচার্য্যের (৪৩) বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া গ্রামে। ওই রাতে তিনি নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে, আজ সোমবার সকালে লাশ উদ্ধার এবং ডাকাতি চেষ্টার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই মিন্টু নামের এক নৈশপ্রহরীকে খুঁজছে পুলিশ।
রোববার রাতে প্রশান্তের সঙ্গে তার ডিউটিতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি রাতে ডিউটিতে ছিলেন না। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া, এই ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত প্রশান্তের ছোট ভাই গোবিন্দ আচার্য্যকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গোবিন্দ ডাকঘরের অভ্যন্তরে একটি দোকান পরিচালনা করেন।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিনি ডাকঘরে পৌঁছে তার ভাইকে ডাকতে গিয়ে লাশ পড়ে থাকতে দেখেন বলে দাবি করেন। পরে তিনি পুলিশে খবর দেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, ডাকঘরের পূর্ব পাশের বারান্দার মেঝেতে পাতানো নিজের বিছানায় প্রশান্তের লাশ পড়ে আছে।
তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছাড়াও কাপড়ের ছেড়া অংশ দিয়ে ডান হাত বাঁধা ছিল। দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকে ট্রেজারি শাখার বিভিন্ন ফাইলপত্র তছনছ করেছে।
তারা ইলেকট্রিক ড্রিল মেশিন দিয়ে ভল্টের দরজায় ৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ৪ ইঞ্চি প্রস্থ করে কেটেছে।
একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন,
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা নিহত অফিস সহায়ক প্রশান্তের সহযোগিতায় ভেতরে প্রবেশ করে।”
শুরুতে দেয়াল টপকে ডাকঘর চত্বরে প্রবেশ করলেও ভবনের ভেতরে ঢুকতে তাদের কোনো দরজা কাটতে বা তালা ভাঙতে হয়নি।
এ ছাড়াও প্রশান্ত যেখানে বিছানা করে শুয়ে ছিলেন সেখানকার কলাপসিবল গেটে তালা দেওয়া ছিল।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুদীপ চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সেখানে পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনাটি ডাকাতির চেষ্টা। পুলিশের একাধিক দল জড়িতদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে।
লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Comments are closed.