ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় আসামি ৬৮ শিশু-কিশোর

চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে গত ১৬ নভেম্বর ছোট শিশুর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে।

শিশুটির বয়স তিন বছর তিন মাস। জীবন-জগৎ সম্পর্কে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে মামলার আসামি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ফেসবুকে প্রচারের কারণে করা মামলায় আট আসামির একজন শিশু আল নাইম (ছদ্মনাম)।

একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মফিজুল ইসলাম ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাসানকে মূল আসামি করে মামলাটি করেন।

শুধু আল নাইম নয়, এই আইনে বিভিন্ন স্থানে অনেক শিশু-কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শিশু-কিশোরদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, কমেন্ট ও শেয়ার দেওয়ার কারণে অধিকাংশ মামলা হয়েছে।

বেসরকারি সংস্থা দৃক জানিয়েছে, ২০২০ সাল থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় কমপক্ষে ৬৮ শিশু-কিশোরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৩৪টি মামলা হয়েছে।

তাদের অধিকাংশই জামিন পেয়েছে। কেউ কেউ আছে কিশোর সংশোধনাগারে। আসামিদের অধিকাংশের বয়স ১২ থেকে ১৭।

 

আরও পড়ুন:  লক্ষ্মীপুরে বিয়ের দাবিতে অনশন

 

২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস হয়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিজিএসের তথ্য অনুযায়ী, এর পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব মামলায় অভিযুক্ত ৩ হাজার ৬৬৮ জনের মধ্যে আটক হন ১ হাজার ১১৯ জন।

অভিযুক্তদের মধ্যে রাজনীতিবিদ চার শতাধিক, ৫১ জন শিক্ষক এবং ১০৬ জন শিক্ষার্থী। ৬০ শতাংশ মামলা হয়েছে ফেসবুক কার্যক্রম নিয়ে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকরের সাড়ে চার বছরে ১ হাজার ৩০০টির বেশি মামলা হয়েছে।

এসব মামলায় আসামি হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৬৬৮ জন। এর মধ্যে আটক হন ১ হাজার ৪০০ জনের মতো।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অসংখ্য মামলা হচ্ছে।

গুজব ছড়ানো, বিভ্রান্তি সৃষ্টি, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়।

বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা বিচারাধীন মামলা বেশি।

ঢাকায় মামলা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০। বাকি মামলাগুলো অন্য সাত বিভাগীয় শহরে বিচারাধীন।

মূলত রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং মানহানির অভিযোগে এ তিনটি ধারায় মামলা হয়েছে।

এনএএনটিভি