নয়ামাটি হোসিয়ারী পল্লী সরানোর পরিকল্পনা!

দুর্ঘটনা এড়াতে নারায়ণগঞ্জ শহরের নয়ামাটি হোসিয়ারী ব্যবসায়ীদের অন্যত্র স্থানান্তর করার পরিকল্পনা চলছে।

কারণ হিসেবে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন হোসিয়ারী পল্লীগুলোতে অগ্নিঝুঁকি এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে গেছে।

বিশেষ করে নয়ামাটি, দেওভোগ মার্কেট ও আরও বেশ কয়েকটি স্থানে পুরনো এবং জরাজীর্ণ ভবনে কাজ করছে শ্রমিকরা।

যেখানে নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ কোনোটাই নেই।

তাই বাণিজ্যিক এই সেক্টরটিতে যে কোনো সময় বড় ধরনের ট্রাজেডির শঙ্কা থাকায় এটিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর অথবা কাশীপুরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

নারায়ণগঞ্জ কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক ড. রাজীব চন্দ্র দাস বলেন, নারায়ণগঞ্জে আমাদের হোসিয়ারী সেক্টর পুরোটাই বার্নারেবল।

এখানে শিশু শ্রমিক আছে এবং সেফটির রিস্কও (ঝুঁকি) আছে।

ফায়ারের কোনো সেফটি নাই। অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটলে যে মানুষ বের হয়ে আসবে তাও সম্ভব না।

তাই এখানে আমাদের লাইসেন্স দেওয়াও বন্ধ আছে। এ বিষয়ে এমপি সাহেবকেও জানানো হয়েছে।

বন্দরে একটি ইপিজেড হওয়ার কথা। তাদের সেখানে স্থানান্তর করার একটি পরিকল্পনা আছে। কারণ দুর্ঘটনা ঘটে গেলে অনেক মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে।

মন্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বলেন,

নারায়ণগঞ্জ শহরের নয়ামাটি এবং এর নিকটবর্তী প্রতিটি হোসিয়ারী পল্লী ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে আছে।

আমরা মাঝে মাঝে ভাবি যদি এখানে কোনো বড় ধরনের অগ্নিকা- অথবা অন্য কোনো দুর্ঘটনা হয়, তাহলে আমরা কি করবো!

এই হোসিয়ারী পল্লীগুলোর রাস্তাঘাট সরু। আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও ঢুকবে না।

যেসব দালান ও বিল্ডিংয়ে হোসিয়ারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার বেশিভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ এবং জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে।

তাই যদি এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বা স্থানান্তর করা হয়, তাহলে তো খুবই ভালো হবে।

আমিও মনে করি এটাই করা উচিৎ। নইলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দেখা যাবে কেউ এর দায় নেবে না।

এদিকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা হোসিয়ারী পল্লীকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বললেও ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা।

তাদের দাবি সরিয়ে না নিয়ে, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো রি-কনস্ট্রাকশন করলেই হবে।

আর হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, হোসিয়ারীর গদিঘরগুলো শহরে রেখে কারখানা সরিয়ে নিলে ভালো হবে। তবে তা হতে হবে শহরের খুব কাছে।

বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল বলেন, আমরা চাচ্ছি হোসিয়ারীর গদিঘরগুলো শহরেই থাকুক।

তবে ঝুঁকি এড়াতে কারখানাগুলো কাশীপুর অথবা বন্দরের কোথাও শিফট করতে পারলে ভালো হবে। তবে এটা খুব কাছাকাছি হতে হবে।

বন্দরের যেই ইকোনামিক জোন হচ্ছে সেটা রপ্তানিমুখী পোশাক কারাখানার মালিকদের জন্য। ক্ষুদ্র হোসিয়ারী ব্যবসায়ীরা সেখানে গিয়ে সুবিধা করতে পারবে না।

এ বিষয়ে আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েও জানিয়েছি। দেখা যাক কি হয়। তবে ঝুঁকির বিষয়টা নিয়ে আমরাও খুব চিন্তায় আছি।

তথ্য বলছে, নারায়ণগঞ্জ শহরে সরকারি হিসেবে ২ হাজারের মতো ছোট-বড় হোসিয়ারী প্রতিষ্ঠান আছে।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হোসিয়ারী আছে নগরীর দুইনং রেলগেট সংলগ্ন দেওভোগ মার্কেট এবং নয়ামাটিতে। নয়ামাটি বেশ পুরনো এলাকা।

এখানে অসংখ্য জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন একটির সাথে অরেকটি লাগানো। রাস্তাঘাট সরু, রয়েছে তারের জঞ্জাল।

তাই এই হোসিয়ারী পল্লীটিকেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে এই মুহূর্তে। পাশাপাশি দুইনং রেলগেট এলাকার দেওভোগ মার্কেটও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রতিবছরই এখানে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। তাই এই দুটি হোসিয়ারী পল্লী নিয়েই আপাতত বেশি দুশ্চিন্তায় আছে সরকারি কর্মকর্তারা।

 

এনএএন টিভি