নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলায় একটি আবাসিক মাদ্রাসায় তিন ছাত্রকে বলাৎকারের পর পালিয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষক।
জামতলার ধোপাপট্টি এলাকার দারুল ইসলাহ ইসলামিয়া মাদরাসার হেফজখানার তিন ছাত্রের সাথে এই ঘটনা ঘটে।
(১০ মে) বুধবার এই বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ছাত্রদের অভিভাবকদের মাঝে এ ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরী হয়।
তবে এর আগে ৯ তারিখ ভোরেই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত শিক্ষক।
বলাৎকারের শিকার এক ছাত্রের মা জানান, মাদ্রাসার হেফজখানার শিক্ষক শাহজালাল গত তিন মাস ধরে তার ছেলেকে বলাৎকার করছিল।
কিন্তু ভয়ে কখনো মায়ের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি ছেলে।
তবে গত ৯ এপ্রিল মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে এসে বলাৎকারের বিষয়ে মুখ খোলেন তার ছেলে।
এরপর দারুল ইসলাহ ইসলামিয়া মাদরাসার আরো দুই ছাত্র হেফজখানার শিক্ষক শাহজালালের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ করেন।
বলাৎকারের শিকার এক ছাত্রের পিতা বলেন, আমি তো আমার ছেলেকে এখানে মানুষ হতে পাঠিয়েছি।
কিন্তু এখন যে আমার ছেলে এই মাদ্রাসা থেকে নোংরা স্মৃতি নিয়ে গেল, এটা তো সারা জীবনেও সে ভুলবেনা।
আমি তো এ বিষয়ে কখনো চিন্তাও করিনি। কিন্তু কি হয়ে গেল। আল্লাহ তুমি আমাদের মাফ করো।
আশরাফ উদ্দিন নামে দারুল ইসলাহ ইসলামিয়া মাদরাসার এক শিক্ষার্থীর বড় ভাই বলেন,
আমরা আমাদের সন্তান ও ভাইদের তো আল্লাহ-আল্লার রসুলের পথে শিক্ষা নিতে এখানে পাঠিয়েছি।
কিন্তু এদিকে যে এসব ঘটনা ঘটে, তা তো আমাদের জানা নেই। এখন আর এখানে আমার ভাইকে লেখাপড়া করাবোনা।
এখানে যেই ঘটনা ঘটেছে এটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জন্যই হয়েছে। আমরা এর বিচার করবো।
আবু সাঈদ নামে জামতলা ধোপাপট্টি এলকার এক বাসিন্দা বলেন, এই মাদ্রাসার মধ্যে কয়দিন পর পরই বাচ্চাদের বেদম পেটায় হুজুররা।
গত রোজার ভেতরেও এক ছাত্রকে মারধর করা হইসে। আমরা এসব অভিযোগ শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে গেছি।
এরমধ্যে আজকে আমরা এমন একটা ঘটনা ঘটল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
জানতে চাইলে দারুল ইসলাহ ইসলামিয়া মাদরাসার হেফজখানার প্রধান আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা রাতে এক ঘরে ঘুমাই।
আর ছাত্ররা অন্য ঘরে আলাদা আলাদা থাকে। এরমধ্যে কিভাবে এমন ঘটনা ঘটল তা আমি জানিনা।
আর শাহজালালার নামে যেই হুজুরের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে সে গতকাল রাতে পালিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহজালাল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বলাৎকারের শিকার সেই ছাত্রদের অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রিজাউল হক দিপু জানান, এ বিষয়ে আমরা এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।
অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
