নিহত মুক্তি রানীর বোনকে চাকরি দিলেন জেলা প্রশাসক

নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক কিশোরের দায়ের কোপে নিহত স্কুলছাত্রী মুক্তি রানী বর্মনের বড় বোন নিপা রানী বর্মণকে চাকরি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত শাখায় আউট সোর্সিংয়ে তাকে চাকরি দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৯ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিপা রানী বর্মণের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন জেলা প্রশসাক। এ সময় মুক্তি রানীর বাবা-মা তার সঙ্গে ছিলেন।

নিপা রানী বর্মণ নেত্রকোনা সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ জানান,

‘মুক্তি রানীর ভাই-বোনেরা যেন তাদের পড়ালেখা ঠিকমত চালিয়ে যেতে পারে। তারা যেন তাদের অসহায় না ভাবে।

সেই মানবিক দৃষ্টিকোন থেকেই মুক্তি রানী বর্মণের বড় বোনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে সাপোর্ট পাবে।

এছাড়া মানসিকভাবে ওই পরিবারটিকে সোপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রশাসন সবসময় সুনজর রাখবে।’

জেলা প্রশাসক বলেন,

‘মুক্তি রানী হত্যার ঘটনায় আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই মর্মাহত। এ ঘটনা আমার মনে কঠিন দাগ কেটে গেছে। যে চলে গেছেন থাকে তো আর ফেরানো যাবে না।

মুক্তি

তবে যারা আছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টায় নিজ উদ্যোগে এই চাকরির ব্যবস্থা করেছি।’

তিনি আরও বলেন,

‘প্রশাসনে চাকরির সঙ্গে মানবিকতার দায়িত্বও রয়েছে আমাদের। আমরা চাই নিহত মুক্তি রানী বর্মণের মতো আর যেন কাউকে এভাবে জীবন দিতে না হয়।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মামুন খন্দকার, অতিরিক্ত

জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) অনিমেষ সোম, বারহাট্টার উপজেলা নির্বাহী অফিসার

(ইউএনও) এসএম মাজহারুল ইসলাম, বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক

সাংগঠনিক সম্পাদক ও বারহাট্টা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার সাহা

সেন্টু, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিতাংশু বিকাশ আচার্য প্রমুখ।

গত ২ মে নেত্রকোনার বারহাট্টায় স্কুল থেকে ফেরার পথে দশম শ্রেণির ছাত্রী মুক্তি রানী বর্মণকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে কাওসার (১৯)।

এ ঘটনায় দেশ জুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরদিন বিকেলে কাওসারকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা মুক্তি রানীর পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন :

এনএএন টিভি