প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে বগুড়ায় দিনব্যাপি ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা এবং ছানি অপরারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বগুড়া পৌর হাই স্কুলে সৌদি আরবভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা আল-বাশার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক মানের এ ক্যাম্পের আয়োজন করে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায় সকাল থেকেই চিকিৎসা নিতে স্কুল প্রাঙ্গণে ভিড় জমান হাজারো নারী-পুরুষ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রবীণ, নারী ও শিশুদের পদচারণায় পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, আল-বাশার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ সেক্টরের পরিচালক ডা. আহমেদ তাহের হামিদ আলী, রিচার্স এন্ড মেডিকেল সুপারভাইজার ডা. সালমান আহম্মেদ, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক হাফিজ আল আসাদ সাইদ খান, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বারডেম শাখার সভাপতি ডা. আমিরুল ইসলাম পাভেল উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া অঞ্চলের এই চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনায় জেলা টিমের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ডা. শাহ মো. শাহজাহান আলী, অধ্যাপক ডা. আজফারুল হাবিব রোজ, ডা. মো. ইউনুস আলী ও সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল। পাশাপাশি ঢাকায় অবস্থানরত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের দিকনির্দেশনায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রকৌশলী মো. এ কে এম জহিরুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. সুমন রহমান এবং এম-ট্যাব কেন্দ্রীয় সদস্য মো. মিজানুর রহমান।
আল-বাশার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ সেক্টরের পরিচালক ডা. আহমেদ তাহের হামিদ আলী বলেন, আমাদের লক্ষ্য অন্তত ৫ হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া। এর বেশি রোগী এলেও আমরা চিকিৎসা প্রদান করব। কেউ বিনা চিকিৎসায় ফিরবেন না। এই ক্যাম্প থেকে ৫০০ রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের (সার্জারি) পরিকল্পনা রয়েছে।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বারডেম শাখার সভাপতি ডা. আমিরুল ইসলাম পাভেল বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে। এর আগেও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত সেবা এবং অ্যাজমা সেন্টার পরিচালনা করা হয়েছে। আজ দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই চিকিৎসা সেবা ও অপারেশনের সুযোগ তৈরি করা হলো।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৫ হাজারের বেশি মানুষ এখানে সেবা নিতে এসেছেন। যাদের ওষুধ ও চশমা দরকার তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মানবিক অঙ্গীকার, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তা রক্ষা করে আসছে। প্রথম দিনের প্রাথমিক বাছাই শেষে নির্বাচিত ছানি রোগীদের আগামী ২৯ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হবে।
চিকিৎসা নিতে আসা মহানগরের কলোনী এলাকার মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আগে চোখে ঝাপসা দেখতাম, স্পষ্ট লেখা পড়তে পারতাম না। চশমা পাওয়ার পর এখন ভালো দেখতে পাচ্ছি। আমাদের মতো অসহায় মানুষের জন্য এটি অনেক বড় উপহার।’
