বাঘার বাউসা ভোকেশনাল কলেজ কর্তৃপক্ষের  অবহেলার বলি  ৫  শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় একটি কারিগরী কলেজের বিএম শাখা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় পাঁচজন শিক্ষার্থী চলতি এইচএসসি (১ম বর্ষের) চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও  অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও  হতাশা বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)  থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি (১ম বর্ষের) চুড়ান্ত পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় উপজেলার বাউসা ভোকেশনাল কলেজের বিএম শাখার ১ম বর্ষের ৫ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহন করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলো: সজিব, উম্মে সালমা তুলি, বিপুল হোসেন, নিরব এবং রিয়াদ।

তাদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ সময়মতো তাদের পরীক্ষার ফরম পূরণ, নিবন্ধন বা সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেনি। বিষয়টি তারা আমাদের কে আড়াল করেছে কিত্তু তারাও  কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি ।  ফলে পরীক্ষা শুরু হলেও তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা  কলেজের নির্দেশনা অনুযায়ী রেজিষ্ট্রেশন ও ফর্মফিলাপ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থও জমা দিয়েছি। গত ৩০ জুন আমরা পরিক্ষার প্রবেশপত্র নিতে কলেজে এসে জানতে পারি আমাদের রেজিষ্ট্রেশন ও ফরমফিলাপ কোনটিই হয়নি। পরে প্রতিষ্ঠান প্রধান রেজাউল করিম ভুল স্বীকার করে আগামী বছরের ফরমফিলাপের দায়িত্ব নিয়ে টাকা ফেরত দিয়েছেন। কিন্তু কলেজের গাফিলতির কারণে আজ আমাদের একটি শিক্ষাবর্ষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কে নেবে এ দায়ভার?

অপর দিকে ওবায়দুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, আমার নিবন্ধন পত্র ও প্রবেশ পত্রে অন্য জনের ছবি ব্যাবহার করা হয়েছে। এ কারনে পরিক্ষার কেন্দ্রে বিড়ম্বনায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনে আমি কেন ভুক্তভোগী গবো?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  বাউসা কলেজে নিয়োগ প্রাপ্ত দুইজন ক্লার্ক রয়েছেন।  তারপরও প্রতিষ্ঠান প্রধান  কম্পিউটার ট্রেড ইন্সট্রাকটর মনিরুল ইসলাম  ও হাসান মাহমুদ কে দিয়ে রেজিষ্ট্রেশনের সকল কাজ করান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রেড ইন্সট্রাকটর মনিরুল ইসলাম  ও হাসান মাহমুদ প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে রাজি হননি।

অভিভাবকদের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার দায় কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো যায় না। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম  ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে বলেন,  রেজিষ্ট্রেশন না হওয়ায় আমার প্রতিষ্ঠানের ৫ জন শিক্ষার্থী পরিক্ষা অংশ গ্রহন করতে পারছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। এখন আর কিছুই করার নেই। আমি তাদের ফরম ফিলাপের দায়িত্ব নিয়ে টাকা ফেরত দিয়েছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অঃদাঃ) আবু জাফর আলী বলেন,  এ ব্যাপারে আমাকে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এখনও কিছুই জানানো হয়নি। এখন জানলাম, এটি খুবই দুঃখ জনক বিষয়। সংশ্লিষ্ট  উর্ধ্বতন কর্মকতার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটির কারণে পাঁচজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ  অনিশ্চয়তার মুখে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এ কারণে তাদের জীবন থেকে ঝরে পড়বে একটি বছর।  কেউ কেউ আবার সারা জীবনের জন্য ঝরে পড়তে পারে।  তাই  তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রশ্ন থেকেই যায়, শিক্ষার্থীদের কে টাকা ফেরত দেওয়ায় কি সমাধান?  কেনইবা কর্মচারীর গাফিলতির দায় অধ্যক্ষ মাথা পেতে নিলেন? নাকি দোষ ধামাচাপা দিতেই অধ্যক্ষের এমন কৌশল? তাই যদি হয় তাহলে কে নেবে এর দায়ভার?