বৃদ্ধ বয়সেও হাতের লেখার প্রতি অদম্য সাহসীকতার দৃষ্টান্ত আর অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ভারুয়াখালীর প্রবীণ মুরব্বি আবদুল হালিম। ৭৮ বছরেও নিজ হাতে লিখেন পবিত্র কোরআন শরীফের ত্রিশটি পারা। এই বয়সে জয় করে তিনি এক নজির সৃষ্টি করেন। জেলাজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালী চান্দুর পাড়ার এ মুরব্বি।
প্রায় ৮০ দিনের পরিশ্রমের ফল ফসল হাতের লেখা কোরআন শরিফ। এটি তার আত্মিক সাধনার অনন্য প্রতীক। আব্দুল হালিমের পরিবারে ছিল পূর্ব পুরুষদের হাতে লেখা একটি কোরআন।
যেটি ১৯৬৫ সালের এক ঘূর্ণিঝড়ে হারিয়ে যায়। যা দেখে মনে কষ্ট পেয়েছিল সে। সেই ক্ষত ধারণ করে হালিমই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নিজেও লিখবেন আল্লাহর কিতাব। সেই প্রতিজ্ঞা আজ বাস্তবে রুপ পেল। তাঁরই নিজ হাতে লেখা ত্রিশ পারা কোরআন। কলমে লিপিবদ্ধ তার ধৈর্য্যের পরীক্ষা।
স্থানীয়রা বলেন, তিনি শুধু গ্রামের নয়, পুরো এলাকার গর্ব। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও তাকে দেখেন একজন আদর্শিক এবং অনন্য মানুষ হিসেবে। তার লেখা প্রথম এই কোরআন শরীফের অনুলিপিটি উপহার দিতে চান ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনকে। যেন পৌঁছে যায় জাতীয় স্বীকৃতির মর্যাদায়।
তারই নিকটাত্মীয় ছুরত আলম জানান, এই বয়সে এসে পবিত্র কোরআন শরীফ হাতে লেখা এটি একটি অসম্ভব ব্যাপার। একটা বাংলা চিটি লিখতেও অনেক সময় লাগে। এমন মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

মাওলানা আব্দুল হালিমের জন্ম ১৯৪৮ সালে। ১৯৬১ সালে ভারুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। মহকুমা বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাক্ষরও রাখেন। এরপর ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৭২ সালে ফাজিল (এইচএসসি সমমান) ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৭২-৭৪ সাল পর্যন্ত ভারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র ১১০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছিলেন আব্দুল হালিম। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ভারুয়াখালী দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায়। টানা ৪০ বছর শিক্ষকতা শেষে ২০১৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।
অবসর জীবনেও থেমে থাকেননি। গভীর রাতে যখন পুরো গ্রাম নিদ্রায় নিমজ্জিত, তখন তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে ফজরের আগে পর্যন্ত ডুবে থাকেন আরবি ক্যালিগ্রাফিতে। বাড়ির দেয়ালে টাঙানো হরেক রকমের আঁকা আরবি লিপির সৌন্দর্য যেন বিমোহিত করে।
মাওলানা আব্দুল হালিমই প্রমাণ করলো, সত্যিকারের ইচ্ছাশক্তি থাকলেও বয়স কোন বাধা নয়। সবকিছুই সম্ভব।
এনএএন টিভি / এম আবু হেনা সাগর
