মামলার সূত্রে জানা যায় যে, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার বরুনা গ্রামের মনোয়ার আলীর ছেলে রায়হান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে ছিলেন। তার সাথে একই এলাকার ইয়ানুছের ছেলে তাইজুলের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই সুসম্পর্ক থাকাকালে তাইজুল তার নিজ প্রয়োজনে রায়হানের কাছ ৫ লক্ষ টাকা ধার চাইলে রায়হান তাকে উক্ত টাকা ধার দেয়। পরবর্তীতে রায়হান বিদেশ থেকে এসে তাইজুলের কাছে টাকা ফেরৎ চাইলে তাইজুল টাকা ফেরৎ না দিয়ে নানা তাল বাহানা করতে থাকে। ঘটনার দিন, ২৪ মার্চ, ২০২৫ ইং তারিখ বিকাল ০৫:০০ ঘটিকার সময় তাইজুল ফোনে রায়হানকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। বিকাল ০৫:০০ ঘটিকা হতে সন্ধ্যা ০৭:০০ ঘটিকার মধ্যে কোন সময় তাইজুল অন্যান্যদের সহায়তায় তার দোতলা বিল্ডিংয়ের উপর তলায় রায়হানকে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। এই সংক্রান্তে প্রথমে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়। যার অপমৃত্যু মামলা নং-১৯৭/২৫, তারিখ-২৪/০৩/২০২৫ইং। পরবর্তীতে নিহতের পিতা বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি নালিশ মামলা দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশক্রমে গত ২২/০৪/২০২৫ ইং তারিখ নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদেরকে গ্রেফতারের জন্যে র্যাব-১১, সিপিএসসি, আদমজীনগর, নারায়ণগঞ্জ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। পরবর্তীতে র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২২ এপ্রিল, ২০২৫ ইং তারিখ রাত ২২:৪৫ ঘটিকায় সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন বেপারী বাড়ি বায়তুল নুর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামি তাইজুল (৪০), পিতা-মৃত ইয়ানুছ, ২নং আসামি রাহিমা (৩৫), স্বামী-তাইজুল এবং ৩নং আসামি তাইরিন (১৯), পিতা-তাইজুল, সর্ব সাং-বরুনা পূর্বেরটেক, থানা-রুপগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি ০১। তাইজুল (৪০), ০২। রাহিমা (৩৫) এবং ০৩। তাইরিন (১৯)’দেরকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
